নাটোরের লালপুর উপজেলায় আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ৪৬টি পূজামণ্ডপে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। প্রতিমা নির্মাণ, মণ্ডপের সাজসজ্জা ও প্যান্ডেল তৈরির কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। গত বছরের তুলনায় এবার উপজেলায় পাঁচটি পূজামণ্ডপ বেড়েছে। উৎসব নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করতে ৩৮টি মণ্ডপে ইতোমধ্যে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিটি মণ্ডপে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আনসার সদস্যদের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি পুলিশের নজরদারিও থাকবে।
উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় মোট ৪৬টি মণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হচ্ছে। এর মধ্যে গোপালপুর পৌরসভায় আটটি, লালপুর ইউনিয়নে ছয়টি, ঈশ্বরদী ইউনিয়নে চারটি, আরবাব ইউনিয়নে পাঁচটি, চংধুপইল ইউনিয়নে চারটি, বিলমাড়ীয়া ইউনিয়নে তিনটি, দুয়ারিয়া ইউনিয়নে তিনটি, ওয়ালিয়া ইউনিয়নে ছয়টি, দুড়দুড়িয়া ইউনিয়নে চারটি, অর্জুনপুর-বরমহাটি ইউনিয়নে একটি এবং কদমচিলান ইউনিয়নে দুটি মণ্ডপ রয়েছে।
এবার নতুন করে যুক্ত হওয়া পাঁচটি মণ্ডপের মধ্যে রয়েছে গোপালপুর পৌরসভার শিবপুর, ঈশ্বরদী ইউনিয়নের শিবনগর , চংধুপইল ইউনিয়নের সিরাজীপুর, আরবাব ইউনিয়নের বড় বাহাদিপুর এবং কদমচিলান ইউনিয়নের ঘাট চিলান।
পূজাকে সামনে রেখে প্রতিমা তৈরির শেষ মুহূর্তের কাজেও ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমাশিল্পীরা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিমা নির্মাণ ও সরবরাহ শেষ করতে চলছে কর্মব্যস্ততা। বিলমাড়ীয়ার প্রতিমাশিল্পী অসিত কুমার বিশ্বাস বলেন, “এবার চারটি পূজামণ্ডপের প্রতিমা তৈরি করছি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে ব্যস্ততা বেড়েছে।”
লালপুর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি দীপেন্দ্রনাথ সাহা বলেন, “এবার ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপিত হবে। পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করতে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ৩৮টি মণ্ডপে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বাকি মণ্ডপগুলোতেও এ কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।”
তিনি আরও জানান, পূজা উপলক্ষে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল প্রতিটি পূজামণ্ডপের জন্য এক টন করে চাল বরাদ্দ দিয়েছেন।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, পূজামণ্ডপগুলোতে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবেন আনসার সদস্যরা। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের নজরদারি থাকবে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আশা করছেন, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও পূজা উদযাপন কমিটির সমন্বিত উদ্যোগে লালপুরে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপিত হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









