পিরোজপুরের নেছারাবাদে গ্রাম্য চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসায় চারটি গর্ভবতী ছাগল মারা যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত পল্লী চিকিৎসক মো. সোহেলের বিরুদ্ধে বিচার চেয়ে নেছারাবাদ থানায় অভিযোগ দিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার সমুদয়কাঠী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মেসন্ডা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, মেসন্ডা গ্রামের বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম পেশায় একজন ভ্যানচালক। কষ্ট করে দুটি ছাগল কিনে লালন-পালন শুরু করেন তিনি। পরে তাঁর ছাগলের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় সাতটিতে। এর মধ্যে চারটি ছাগল গর্ভবতী ছিল। ছাগলগুলো হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তিনি গ্রাম্য চিকিৎসক সোহেলকে ফোন করে বাড়িতে নিয়ে আসেন। বাড়িতে এসে সোহেল অসুস্থ ছাগলগুলোকে একাধিক ইনজেকশন ও কৃমিনাশক ওষুধ প্রয়োগ করেন। এর পরপরই তিনটি ছাগল কাঁপতে কাঁপতে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে মারা যায়। অপর ছাগলটিও গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে সেটিকে নেছারাবাদ উপজেলা প্রাণিসম্পদ ও ভেটেরিনারি হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যায়। মারা যাওয়া ছাগলগুলো উন্নত জাতের 'যমুনাপাড়ি' বলে দাবি করেছেন মালিক শহিদুল ইসলাম।
ভুক্তভোগী শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমি কষ্ট করে দুটি ছাগল কিনে লালন-পালন শুরু করেছিলাম। এখন আমার সাতটি ছাগল হয়েছে। এর মধ্যে চারটি ছিল গর্ভবতী। হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে সোহেলকে ডেকে আনি। তিনি ওষুধ ও ইনজেকশন দেওয়ার পরপরই ছাগলগুলো মারা যায়। এতে আমার প্রায় পৌনে দুই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। আমি স্থানীয়দের জানিয়ে বিচার চেয়ে থানায় অভিযোগ করেছি।’
স্থানীয় ইউপি সদস্য গৌতম পাল চাংকি বলেন, শহিদুল ইসলামের চারটি ছাগল মারা যাওয়ার বিষয়টি তিনি শুনেছেন। ভ্যান চালিয়ে কষ্ট করে ছাগলগুলো লালন-পালন করছিলেন শহিদুল। ছাগল চারটির বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় পৌনে দুই লাখ টাকা। তিনি বলেন, গ্রামে কিছু অদক্ষ ব্যক্তি যথাযথ প্রশিক্ষণ ছাড়াই গবাদিপশুর চিকিৎসা দিয়ে আসছেন। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে নেওয়া দরকার। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক।
অভিযুক্ত গ্রাম্য চিকিৎসক মো. সোহেল বলেন, ছাগলগুলোর পিপিআর রোগ হয়েছিল। তাই তিনি প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছেন। ছাগলগুলোর পাতলা পায়খানা হওয়ায় খাবারের জন্য কৃমিনাশক ওষুধও দিয়েছিলেন। তাঁর দাবি, ওই ওষুধে ছাগল মারা যাওয়ার কথা নয়। চিকিৎসাসংক্রান্ত প্রশিক্ষণের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
নেছারাবাদ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. তাপস কুমার ঘোষ বলেন, গর্ভবতী ছাগলকে কৃমিনাশক ওষুধ প্রয়োগের ক্ষেত্রে কিছু বিধিনিষেধ রয়েছে, যা মেনে চলা জরুরি। পিপিআর রোগ হলে ছাগলের মধ্যে নির্দিষ্ট কিছু লক্ষণ দেখা যায়। সেসব লক্ষণ পর্যবেক্ষণ না করে চিকিৎসা দেওয়া হলে ছাগলের মৃত্যু হতে পারে। তবে ছাগলগুলোর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হবে।
নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসান বলেন, এ ঘটনায় একটি অভিযোগ পেয়েছেন তাঁরা। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









