কুষ্টিয়ার দুর্গম পদ্মার চরাঞ্চল ও জলসীমায় জলদস্যুতা, মাদক চোরাচালান, সাইবার হ্যাকিং ও সাজাপ্রাপ্ত পলাতক অপরাধীদের দমনে এক নজিরবিহীন সমন্বিত বিশেষ অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। গত শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকাল থেকে দিনব্যাপী কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থানার চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের স্থল ও জলভাগে এই অভিযান পরিচালিত হয়। এতে বিভিন্ন মামলার ২৪ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের প্রেস বিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা যায়, খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. রেজাউল করিমের দিকনির্দেশনায় পার্শ্ববর্তী ৫টি জেলা—কুষ্টিয়া, নাটোর, রাজশাহী, পাবনা ও মেহেরপুরে একযোগে এই যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়। এই বিশাল অপারেশনে মোট ৬৫০ জন পুলিশ সদস্য অংশ নেন।
কুষ্টিয়া অংশের অভিযানে সরাসরি নেতৃত্ব দেন কুষ্টিয়া পুলিশ সুপার মো. আমিনুল ইসলাম। তাঁর সঙ্গে মাঠপর্যায়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) শিকদার মো. হাসান ইমাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) ফয়সাল মাহমুদ, মিরপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুহাম্মদ মাহমুদুল হক মজুমদার এবং দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমানসহ জেলা পুলিশের দুই শতাধিক কর্মকর্তা ও সশস্ত্র ফোর্স অংশ নেন।
পুলিশ জানায়, পদ্মার চরাঞ্চলের ভৌগোলিক জটিলতাকে কাজে লাগিয়ে অপরাধীরা যাতে নিরাপদ আস্তানা গড়ে তুলতে না পারে, সে লক্ষ্যেই এই জল ও স্থলপথের স্পেশাল ড্রাইভ চালানো হয়। দিনভর অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া ২৪ জনের মধ্যে রয়েছে একাধিক ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি, সাইবার হ্যাকিং ও প্রতারণা চক্রের সদস্য, মাদক কারবারি এবং বিভিন্ন ধারায় অভিযুক্ত অপরাধীরা।
কুষ্টিয়া পুলিশ সুপার মো. আমিনুল ইসলাম জানান, চরাঞ্চলের সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে জেলা পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। সীমান্ত ও নদীবেষ্টিত এই এলাকাগুলোতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এ ধরনের বিশেষ চিরুনি অভিযান অব্যাহত থাকবে।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। পুলিশের এই বিশাল অভিযানে চরাঞ্চলের সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









