পটুয়াখালীর বাউফলে পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা ছাড়াই অসুস্থ, হাড্ডিসার ও রোগাক্রান্ত গরু জবাই করে মাংস বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। পৌরবাজারসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কসাইখানায় রাতের আঁধারে এসব পশু জবাই করে সকালে বাজারজাত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। কুকুরের কামড়ে আহত, গর্ভবতী গরু-ছাগল এবং বাছুরসহ গাভি জবাই করে মাংস বিক্রির অভিযোগও রয়েছে। এ নিয়ে জনস্বাস্থ্য ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, গত বুধবার (৭ অক্টোবর) দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে বাউফল পৌরশহরের বাজারে আনোয়ার মুন্সীর কসাইখানায় একটি অসুস্থ গরু জবাই করা হয়। পরদিন বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে ওই গরুর মাংস প্রতি কেজি ৭৫০ টাকা দরে বিক্রি করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী এক ব্যক্তি জানান, গরুটির শারীরিক অবস্থা ভালো ছিল না। গরুটি ছিল অত্যন্ত হাড্ডিসার ও রোগাক্রান্ত। এর মুখ থেকে লালা ঝরছিল এবং খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটছিল। জবাইয়ের আগে তিনি মোবাইল ফোনে গরুটির ছবি তুলে রাখেন বলে জানান।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বাউফল হাইস্কুল রোডের বাচ্চু কসাই, কালিশুরীর ফয়সাল কসাইসহ বিভিন্ন এলাকার কিছু মাংস বিক্রেতা অসুস্থ, হাড্ডিসার গরু সংগ্রহ করে গভীর রাতে জবাই করেন। পরে সকালে এসব পশুর মাংস সাধারণ ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করা হয়। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অন্য কসাইদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এর আগেও উপজেলার গোলাবাড়ি এলাকায় টমটমে করে একটি মৃত গরু নিয়ে আসার অভিযোগ ওঠে। স্থানীয়দের ধাওয়ার মুখে গরুটি ফেলে রেখে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা পালিয়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়রা বলেন, উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে পশু জবাইয়ের আগে সেগুলোর স্বাস্থ্য পরীক্ষা, রোগ শনাক্তকরণ এবং জবাইয়ের উপযোগিতা যাচাইয়ের কার্যকর ব্যবস্থা নিয়মিত দেখা যায় না। ফলে অসুস্থ বা রোগাক্রান্ত পশুর মাংস সাধারণ মানুষের খাবারের তালিকায় চলে আসার আশঙ্কা রয়েছে। বাউফল উপজেলায় পৌরসভাসহ প্রায় ৩০ থেকে ৪০টি কসাইখানায় গরু জবাই করে মাংস বিক্রি করা হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
বাউফল প্রেসক্লাবের সভাপতি জলিলুর রহমান বলেন, বিভিন্ন হাটবাজারে গরু-ছাগল জবাইয়ের আগে পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষার কার্যকর ব্যবস্থা দেখা যায় না। অসুস্থ বা রোগাক্রান্ত পশু জবাই করে মাংস বিক্রি করা হলে তা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিষয়টি উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় একাধিকবার উত্থাপন করা হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, মানুষের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে পশু জবাইয়ের আগে স্বাস্থ্য পরীক্ষা বাধ্যতামূলকভাবে নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অসুস্থ ও রোগাক্রান্ত পশুর মাংস যাতে বাজারজাত করা না হয়, সে জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।
এ বিষয়ে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, সম্প্রতি একটি মৃত গরুর মাংস বিক্রির অভিযোগ পেয়ে গোলাবাড়ি এলাকায় পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। তবে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই টমটমে করে গরুটি নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা পালিয়ে যান।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা শুভেন্দু সরকার বলেন, “জনবল কম থাকায় দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে সমস্যা হচ্ছে। কয়েক দিন আগে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় সব কসাইকে ডেকে সতর্ক করা হয়েছে। আমি যোগদানের পর থেকে কোনো কসাই আমার দপ্তর থেকে গরু জবাইয়ের সার্টিফিকেট নেননি।”
বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সালে আহমেদ বলেন, “বিষয়টি খুবই স্পর্শকাতর। অভিযোগ পাওয়ার পর তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছি। শিগগিরই কসাইখানায় গরু জবাইয়ের সময় নিজে উপস্থিত থেকে বিষয়টি দেখব।”
অভিযোগ অস্বীকার করে কসাইখানার মালিক আনোয়ার মুন্সী বলেন, “আমি কোনো অসুস্থ বা হাড্ডিসার গরু জবাই করি না।” তবে বুধবার দিবাগত রাত ১টার দিকে তাঁর কসাইখানায় অসুস্থ গরু জবাইয়ের ছবি দেখানো হলে তিনি এ বিষয়ে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি বলে অভিযোগকারীর দাবী।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









