উত্তরের জেলা নওগাঁয় জেঁকে বসেছে হাড়কাঁপানো শীত। মঙ্গলবার গভীর রাত থেকেই পুরো জেলা ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়ে আছে। এর সঙ্গে উত্তর দিক থেকে বয়ে আসা কনকনে হিমেল হাওয়ায় তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) জেলায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। স্থানীয় বদলগাছী কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার জানিয়েছে, এটি চলতি মৌসুমের এখন পর্যন্ত সর্বনিম্ন তাপমাত্রা।
শীতের তীব্রতা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন ছিন্নমূল এবং নিম্নআয়ের খেটে খাওয়া মানুষ। পর্যাপ্ত শীতবস্ত্রের অভাবে হাড়কাঁপানো এই ঠাণ্ডায় তাদের দৈনন্দিন কাজ ও জীবনযাত্রা দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ভোরে কাজে বের হওয়া কৃষি শ্রমিক ও রিকশাচালকরা চরম বিপাকে পড়েছেন।
বদলগাছী কৃষি ও আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের তথ্য মতে, সকাল ৯টা পর্যন্ত জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৬.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) এ জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একদিনের ব্যবধানে তাপমাত্রা কমেছে প্রায় সাড়ে ৪ ডিগ্রি। তাপমাত্রা কমার সঙ্গে উত্তরের হিমেল বাতাস শীতকে বাড়িয়ে তুলেছে কয়েকগুণ। দিনে ঠিকমতো দেখা মিলছে না সূর্যের। ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন হয়ে থাকছে চারপাশ। যানবাহনগুলো চলছে হেডলাইট জ্বালিয়ে।
শহরের বরুণকান্দি এলাকার রিকশা চালক রাকিব হোসেন বলেন, দুইদিন থেকে অনেক বেশি শীত। শীতের কারণে বাইরে বের হওয়ায় যাচ্ছে না। লোকজন সেভাবে বাইরে বের হচ্ছে না দেখে আগের মতো ভাড়াও হচ্ছে না। শীতে কষ্ট হলেও দু-মুঠো খাবারের জন্য গাড়ি চালাতে হচ্ছে।
বদলগাছী কৃষি ও আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের উচ্চ পর্যবেক্ষক মোহাম্মদ হামিদুল হক বলেন, জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৬.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা এই মৌসুমের সর্বনিম্ন। আকাশে মেঘ এবং বাতাস থাকায় শীতের তীব্রতা বেশি।
যখন কোনো এলাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮.১ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকে, তখন তাকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বলে। তাপমাত্রা ৬.১ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তাকে বলা হয় মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ। তাপমাত্রা ৪.১ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তা তীব্র শৈত্যপ্রবাহ। আর তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে গেলে তাকে অতি তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









