মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জামেয়া লুৎফিয়া আনোয়ারুল উলুম হামিদনগর বরুণা মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা শাহ মনিরুজ্জামান জসিম তালুকদার নিখোঁজের একদিন পর মারা গেছেন। পরিবারের অভিযোগ, তাঁকে চেতনানাশক কোনো পদার্থ প্রয়োগ করে ভৈরব-আশুগঞ্জ সেতুর নিচে ফেলে রাখা হয়েছিল। পরে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাতে তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন ভাতিজা মুস্তাকিম আল মুনতাজ তালুকদার। নিহত জসিম শ্রীমঙ্গল উপজেলার কালাপুর ইউনিয়নের মাজদিহি এলাকার আব্দুল ওয়াহিদের ছেলে। তিনি চার কন্যাসন্তানের জনক এবং দীর্ঘদিন ধরে বরুণা মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করছিলেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, মাওলানা জসিম শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভৈরবগঞ্জ বাজারের একটি বাসায় থাকতেন। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেল থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। পরিবারের সদস্যরা প্রথমে ধারণা করেছিলেন, তিনি মাদ্রাসায় রয়েছেন। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর অসুস্থ অবস্থার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি জানতে পারেন।
পরিবারের দাবি, ভৈরব-আশুগঞ্জ সেতুর নির্জন এলাকা থেকে তাঁকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় কয়েকজন যুবক তাঁকে উদ্ধার করে ভৈরবের একটি হাসপাতালে ভর্তি করেন। তবে তাঁর শরীরে দৃশ্যমান রক্তাক্ত ক্ষত বা শারীরিক নির্যাতনের চিহ্ন ছিল কি না, সে বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
নিহতের ভাতিজা মুস্তাকিম আল মুনতাজ তালুকদার জানান, শুক্রবার থেকে তাঁর চাচা নিখোঁজ ছিলেন। শনিবার দুপুরে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও দেখে তাঁরা বিষয়টি জানতে পারেন। পরে পরিবারের সদস্যরা উদ্ধারকারী যুবকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ভৈরবে যান। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে অন্য হাসপাতালে নেওয়ার পথে গাড়িতেই তাঁর মৃত্যু হয় বলে জানান তিনি।
স্থানীয় বিএনপি নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী এবাদুর রহমান মোশাহিদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মাওলানা জসিমের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন বলে জানা গেছে। ওই ভিডিওর সূত্র ধরে পরিবারের সদস্যরা তাঁর অবস্থান সম্পর্কে জানতে পারেন।
সংবাদ পেয়ে বরুণা মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা আহমদ জুবায়ের জুয়েলসহ পরিবারের সদস্য ও স্বজনেরা ভৈরবের উদ্দেশে রওনা হন। তবে উন্নত চিকিৎসার জন্য স্থানান্তরের সময়ই মাওলানা জসিমের মৃত্যু হয়।
পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁকে চেতনানাশক পদার্থ প্রয়োগ করে ফেলে রাখার অভিযোগ করা হলেও এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বক্তব্য কিংবা ময়নাতদন্তের তথ্য পাওয়া যায়নি। তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত প্রয়োজন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









