করোনা মহামারির পর হাম; সংকটকালে সিলেটের মানুষের অন্যতম ভরসা শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতাল। তবে জনবলসংকট, রোগনির্ণয়ের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকা ও জরাজীর্ণ অবকাঠামোর কারণে হাসপাতালটির চিকিৎসাসেবা চলছে জোড়াতালিতে। ১০০ শয্যার এ হাসপাতালে প্রতিদিন বহির্বিভাগে চিকিৎসা নেন প্রায় ৯ শতাধিক রোগী। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য তাঁদের যেতে হয় বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টার কিংবা সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। অন্যদিকে এক দশক আগে বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।
সিলেটের শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের ভোগান্তির অন্যতম কারণ প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার সীমিত সুযোগ। চিকিৎসকের পরামর্শ পাওয়ার পর রোগনির্ণয়ের জন্য অনেক রোগীকে হাসপাতালের বাইরে যেতে হয়। এতে চিকিৎসা নিতে বাড়তি সময় ও অর্থ ব্যয় হচ্ছে তাঁদের।
জনবল ও সরঞ্জামসংকট
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ১০০ শয্যার হাসপাতাল পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় জনবল ও চিকিৎসা সরঞ্জামের ঘাটতি রয়েছে। চিকিৎসক ও নার্স সংকটের পাশাপাশি রোগনির্ণয়ের পর্যাপ্ত ব্যবস্থাও নেই। এক্স-রে ছাড়া অধিকাংশ পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ না থাকায় রোগীদের অন্য প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। হাসপাতালটির দুটি অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যে একটি অচল। চালকের দুটি পদের একটি শূন্য। মেডিকেল টেকনোলজিস্টের চারটি পদের মধ্যে একটি দীর্ঘদিন ধরে খালি রয়েছে। এ ছাড়া চিকিৎসকের দুটি ও নার্সের ১১টি পদ শূন্য। হাসপাতালটির চিকিৎসাসেবা পরিচালনায়ও রয়েছে নানা সীমাবদ্ধতা। প্রতিদিন প্রায় ৯০০ রোগী বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসায় সীমিত জনবল ও রোগনির্ণয়ের ব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়ছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম ও দক্ষ জনবলের অভাবে রোগীদের হাসপাতালের বাইরে পরীক্ষা করাতে হচ্ছে।
অন্যদিকে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের পদও দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। এতে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনায় জটিলতা তৈরি হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ ফাইলপত্রের কাজ করতে হচ্ছে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে।
হাসপাতালে আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) ডা. মির্জা রিয়াদ হাসান এদিনকে বলেন, ‘চিকিৎসক ও নার্সরা প্রতিদিন দুই শিফটে কাজ করছেন। জনবলসংকটের কারণে তেমন কোনো সমস্যা হচ্ছে না। প্রতিকূল অবস্থার মধ্যেও আমাদের পক্ষে যতটুকু সম্ভব, চিকিৎসাসেবা চালিয়ে নিচ্ছি।’
তিনি আরও বলেন, প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ দিয়ে হাসপাতালটিকে পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা গেলে সিলেট অঞ্চলের চিকিৎসাসেবায় এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।
ঘোষণার এক দশকেও চালু হয়নি শিশু হাসপাতাল
২০১৪ সালে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালকে বিশেষায়িত শিশু হাসপাতালে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০১৫ সালে হাসপাতালটির উদ্বোধন করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরে হাসপাতালটিকে ২০০ শয্যায় উন্নীত করতে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময়ে কাজ শুরু না হওয়ায় বরাদ্দের টাকা ফেরত যায়। এক দশক পেরিয়ে গেলেও চালু হয়নি বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, প্রশাসনিক অনুমোদন না পাওয়া, জনবলসংকট এবং গণপূর্ত বিভাগ ও স্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের মধ্যে সমন্বয়হীনতার কারণে উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হয়নি। ২০২০ সালে করোনা মহামারির সময় হাসপাতালটিকে করোনা ডেডিকেটেড ঘোষণা করা হলে শিশু হাসপাতাল চালুর উদ্যোগ আরও পিছিয়ে যায়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল চালুর জন্য পদ সৃষ্টি ও জনবল নিয়োগের বিষয়ে ২০১৫-১৬ সালে চার দফায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছিল। তবে এরপরও কার্যকর অগ্রগতি হয়নি।
সিলেটের সিভিল সার্জন ডা. মো. নাসির উদ্দীন এদিনকে বলেন, শিশু হাসপাতাল চালুর কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য ও কাগজপত্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এখন হাসপাতাল চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব মন্ত্রণালয়ের।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









