রাঙামাটির ঐতিহ্যবাহী রাজবন বিহারে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হচ্ছে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম পবিত্র ধর্মীয় উৎসব শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা। এ উপলক্ষে বিহারে দিনব্যাপী নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সকালে বুদ্ধ পতাকা উত্তোলন ও তাবতিংস পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হয় পূর্ণিমার আনুষ্ঠানিকতা। বিকেলে অনুষ্ঠিত হবে ঐতিহ্যবাহী ফানুস বাতি প্রজ্বালন ও উত্তোলন।
রবিবার (২৫ অক্টোবর) সকাল ৬টায় বুদ্ধ পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে রাজবন বিহারে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। পরে সকাল ৭টায় বিহারের ঐতিহ্যবাহী স্বর্গঘরে অনুষ্ঠিত হয় তাবতিংস পূজা বা সীমিতং পূজা। এ সময় দেবতাদের প্রতীকী সাজে সজ্জিত ব্যক্তিরা ভিক্ষুসংঘকে অভ্যর্থনা জানান। সকাল ৯টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত দিনের মূল ধর্মীয় অনুষ্ঠান আয়োজনের কথা রয়েছে।
বৌদ্ধ ধর্মীয় ঐতিহ্য অনুযায়ী, প্রবারণা পূর্ণিমার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে মহাকারুণিক গৌতম বুদ্ধের তাবতিংস স্বর্গে অবস্থান ও ধর্মদেশনার স্মৃতি। কথিত আছে, প্রয়াত মাতাকে ধর্মদেশনার মাধ্যমে কৃতজ্ঞতা জানানোর উদ্দেশ্যে গৌতম বুদ্ধ তাবতিংস স্বর্গে গমন করেন। সেখানে তিনি দেবতাদের উদ্দেশ্যে অভিধর্ম দেশনা করেন। তিন মাস ধর্মদেশনা শেষে আশ্বিনী পূর্ণিমায় তিনি পৃথিবীতে ফিরে আসেন। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছে বুদ্ধের এই প্রত্যাবর্তন বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।
প্রবারণা পূর্ণিমার মধ্য দিয়ে তিন মাসব্যাপী বর্ষাবাসেরও সমাপ্তি ঘটে। বর্ষাবাসে ভিক্ষুসংঘ নির্দিষ্ট বিহারে অবস্থান করে ধর্মচর্চা, ধ্যান ও বিনয় অনুশীলনে সময় অতিবাহিত করেন। প্রবারণার দিনে তাঁরা পারস্পরিক ভুল-ত্রুটি স্বীকার ও সংশোধনের মাধ্যমে আত্মশুদ্ধির চর্চা করেন। এর মধ্য দিয়ে সংযম, শৃঙ্খলা ও সংঘের ঐক্যের শিক্ষা আরও সুদৃঢ় হয়।
প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে বিকেলে রাজবন বিহারে ফানুস বাতি প্রজ্বালন ও উত্তোলনের আয়োজন করা হয়ে থাকে। এ আয়োজনকে ঘিরে বিহারজুড়ে বিরাজ করে উৎসবের আমেজ।
সব মিলিয়ে, রাজবন বিহারে শুভ প্রবারণা পূর্ণিমার আয়োজন বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় অনুভূতি, আত্মশুদ্ধি ও কৃতজ্ঞতার পাশাপাশি মৈত্রী, সম্প্রীতি ও শান্তির বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









