রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় তিন দশকের বেশি সময় ধরে ভোট গ্রহণ হয়ে আসা সাউদপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোটকেন্দ্র পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়ে স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে আপত্তি দেখা দিয়েছে। কেন্দ্রটি চিলখাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থানান্তরের উদ্যোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভোটারদের একাংশ। তাঁদের অভিযোগ, স্থানীয় বাসিন্দাদের মতামত না নিয়েই কেন্দ্র পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সরেজমিনে তদন্ত করেছেন নির্বাচন কর্মকর্তারা।
এদিন কোলকোন্দ ইউনিয়নের সাউদপাড়া ও চিলখাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন তাঁরা। এ সময় দুই পক্ষের বক্তব্য শোনার পাশাপাশি কেন্দ্র দুটির পরিবেশ ও যাতায়াতব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন কর্মকর্তারা।
সাউদপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল গাফফার ও জাহেদুল ইসলাম বলেন, ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে এই কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ হয়ে আসছে। নির্বাচনের সময় এখানে ভোটারদের ব্যাপক সমাগম হয়। কেন্দ্রটি সরিয়ে নেওয়া হলে বিশেষ করে নারী, বয়স্ক ও অসুস্থ ভোটারদের দুর্ভোগ বাড়বে। নতুন কেন্দ্রে যাতায়াতের সুবিধাও তুলনামূলক কম। তাই তাঁরা আগের কেন্দ্র বহাল রাখার দাবি জানান।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, তিস্তা নদীর ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত চিলখাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোট গ্রহণের উপযুক্ত পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বিদ্যালয়টি নদীর কাছাকাছি হওয়ায় যাতায়াতেও সমস্যা হতে পারে। রিকশা-ভ্যান চলাচলের সুবিধা না থাকায় অনেক ভোটারকে হেঁটে কেন্দ্রে যেতে হতে পারে। এ ছাড়া কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে তাঁদের।
অন্যদিকে, চিলখাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দা হাবিবুর রহমান ও আব্দুল হালিম বলেন, কেন্দ্র পরিবর্তনের বিষয়ে কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত রয়েছে। তবে ভোটারদের যাতায়াতের সুবিধা ও ভোট গ্রহণের পরিবেশ বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
কোলকোন্দ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত প্যানেল চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম বলেন, ভোটকেন্দ্র পরিবর্তনের বিষয়ে নির্বাচন কমিশন থেকে তাঁদের কাছে কোনো চিঠি আসেনি। বিষয়টি তাঁদের জানানোও হয়নি।
রংপুরের অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, “নির্বাচন কমিশন থেকে ভোটকেন্দ্র পরিবর্তন নিয়ে পাওয়া অভিযোগের চিঠিটি তদন্তের জন্য আমাদের কাছে পাঠানো হয়েছে। কমিশনের নির্দেশেই আমরা তদন্তে এসেছি। কেন্দ্রটি নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্য শুনেছি, আমরাও সরেজমিনে দেখেছি। এখন তদন্ত প্রতিবেদন নির্বাচন কমিশনে পাঠাব। কমিশনই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।”
অতিরিক্ত জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান বলেন, “আমরা দুটি কেন্দ্র পরিদর্শন করেছি এবং দুই পক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। তাঁরা আমাদের কাছে সঠিক তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। আমরা যা দেখেছি, তা-ই প্রতিবেদনে লিখব। এখানে কোনো পক্ষপাতিত্ব করার সুযোগ নেই।”
উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ভোটকেন্দ্রে মোট ভোটার ২ হাজার ২৭০ জন। তাঁদের মধ্যে পুরুষ ১ হাজার ১৮১ জন এবং নারী ১ হাজার ৮৯ জন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









