ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) আয়োজিত ছাত্রদলের ‘ডিপ ফ্রিজ বিতরণ’ অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ আজিজুর রহমান হলের সকল শিক্ষার্থীকে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন হল কর্তৃপক্ষ। এতে ‘দলীয় কর্মসূচিতে সকল শিক্ষার্থীদের উপস্থিত থাকার নির্দেশ’ দিয়ে হলকে ‘দলীয়করণের’ অভিযোগ ওঠেছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯টি আবাসিক হলে ছাত্রদলের ফ্রিজ বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার ‘জরুরি বিজ্ঞপ্তি’ ঘিরে এই অভিযোগ উঠেছে। এতে ‘বিব্রত’ বলে জানান আবাসিক শিক্ষার্থীরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ আজিজুর রহমান হলের অফিসিয়াল প্যাডে এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে ফ্রিজ বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর আগে প্রশাসন ভবনের সামনে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ব্যানারে আনুষ্ঠানিকভাবে ৯ টি ডিপ ফ্রিজ বিতরণ করেন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এতদ্বারা শাহ আজিজুর রহমান হলের সকল শিক্ষার্থীদের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সৌজন্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯ টি আবাসিক হলে শিক্ষার্থীদের ব্যবহারের জন্য ৯ টি ডিপ ফ্রিজ বিতরণ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. এমতাজ হোসেন এবং ট্রেজারার অধ্যাপক ড. ইদ্রিস আলী। উক্ত অনুষ্ঠানে অত্র হলের সকল শিক্ষার্থীদের উপস্থিত থাকার জন্য আদিষ্ট হয়ে জানানো হলো।
আবাসিক শিক্ষার্থীরা জানান, জরুরি নোটিশ লেখা দেখে গুরুত্বের সঙ্গে পড়তে গেছিলাম। কিন্তু গিয়ে দেখি নির্দিষ্ট একটা দলের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার নির্দেশনা দিলেন। ফ্রিজ বিতরণ প্রশংসনীয় উদ্যোগ, কিন্তু নির্দিষ্ট দলের হয়ে হল প্রশাসন প্যাড ব্যবহার করে নির্দেশ দিতে পারে না। এতে আমাদের বিব্রতবোধ কাজ করবে না? আশা করি পরবর্তীতে প্রশাসন খেয়াল রাখবেন।
এদিকে সমালোচনা করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আবাসিক শিক্ষার্থী সাকিব আল হাসান লিখেছেন, শিক্ষার্থীদের কল্যাণে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। শিক্ষার্থীদের ব্যবহারের জন্য ডিপ ফ্রিজ বিতরণের উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। তবে প্রশ্ন হলো, একটি রাজনৈতিক ছাত্রসংগঠনের কর্মসূচিতে সব শিক্ষার্থীর উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হল প্রশাসনের প্যাডে নোটিশ জারি করা কতটা যুক্তিসংগত? বিশ্ববিদ্যালয় ও হল প্রশাসন কোনো রাজনৈতিক দলের প্রচার বিভাগের অংশ হতে পারে না। প্রশাসনের দায়িত্ব সাধারণ শিক্ষার্থীদের কল্যাণ নিশ্চিত করা, কোনো নির্দিষ্ট ছাত্রসংগঠনের কর্মসূচির প্রচার করা নয়। ছাত্রদল, ছাত্রশিবির, ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্রশক্তি কিংবা অন্য কোনো ছাত্রসংগঠন—যে সংগঠনই শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করুক, তাদের কর্মসূচির জন্য হল প্রশাসন কেন নোটিশ জারি করবে? একজন সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে প্রশ্ন রাখতে চাই—শিক্ষার্থীদের আবাসন ও অন্যান্য সমস্যা সমাধানে প্রশাসনের যে দায়িত্ব, সেটি যথাযথভাবে পালন না করে কোনো ছাত্রসংগঠনের কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার প্রয়োজন কেন?বিশ্ববিদ্যালয় এমন ছাত্র আছে যারা তিনবেলা ভালোমতো খেতে পারে না সাথে তাদের আবাসন সমস্যা দয়া করে আপনারা সেদিকে লক্ষ্য করুন। আমাদের মতো সাধারণ শিক্ষার্থী যারা তাদের আপনারা এভাবে হয়রানি করবেন না হল প্রশাসনের কাছে অনুরোধ রইল। প্রশাসন সবার, কোনো নির্দিষ্ট ছাত্রসংগঠনের নয়। শিক্ষার্থীদের কল্যাণ হোক প্রশাসনের অগ্রাধিকার, আর নিরপেক্ষতা হোক তার পরিচয়।
সংশ্লিষ্ট বিষয়ে শাহ আজিজুর রহমান হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আব্দুস সামাদ বলেন, আমাদের দেশে টেলিফোনে বার্তা আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে সিস্টেমটি পুরোপুরি উন্নত হতে কিছুটা সময় লাগবেএবং হলের প্রভোস্ট হিসেবে এর সমস্ত দায়দায়িত্ব আমার ওপরই বর্তায়। তবে নোটিশটি সেভাবে দেওয়া উচিত হয়নি; আমি বলেছিলাম যে সম্ভাব্য শিক্ষার্থীরা সম্ভব হলে যেন উপস্থিত থাকে। মূলত পুরো বিষয়টি একটি ভুল বোঝাবুঝি ছিল, যেখানে ছাত্রদল নেতৃবৃন্দের পক্ষ থেকে কেবল অনুরোধ জানানো হয়েছিল যেন শিক্ষার্থীরা সম্ভব হলে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









