দুর্নীতিবিরোধী দীর্ঘ লড়াই আর রেকর্ড ভাঙা ভোটার উপস্থিতির মধ্য দিয়ে সার্বিয়ার রাজনীতিতে রচিত হলো এক অভূতপূর্ব ইতিহাস। প্রায় দুই বছর ধরে চলা শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বাধীন প্রবল গণআন্দোলনের মুখে ক্ষমতা হারাতে হলো দেশটির দীর্ঘদিনের প্রভাবশালী শাসক ও ডানপন্থি নেতা আলেকসান্দার ভুচিচকে।
বিশ্লেষকদের মতে, এক যুগেরও বেশি সময়ের কর্তৃত্ববাদী শাসনের অবসান ঘটিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতার দোরগোড়ায় পৌঁছানো এই তরুণ প্রজন্মের সামনে এখন বিধ্বস্ত অর্থনীতি পুনর্গঠন এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো পুনরুদ্ধারের এক বিশাল ও কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে।
প্রাথমিক ফল অনুযায়ী, দেশটির ২৫০ আসনের পার্লামেন্টে শিক্ষার্থীদের তালিকা ১৪০টি আসন পেতে যাচ্ছে। অন্যদিকে, ভুচিচের সার্বিয়ান প্রগ্রেসিভ পার্টি পেতে পারে ১০৪টি আসন। তবে চূড়ান্ত ফল ঘোষণার আগে নতুন সরকার গঠনে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।
২০২৪ সালে নোভি সাদ শহরে একটি রেলস্টেশনের ছাউনি ধসে ১৬ জন নিহত হওয়ার পর দুর্নীতিবিরোধী বিক্ষোভ জোরালো হয়। সেই আন্দোলন থেকেই শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ বিস্তৃত হয়। তাদের প্রধান প্রতিশ্রুতির মধ্যে রয়েছে দুর্নীতি দমন, পুলিশ ও বিচারব্যবস্থার সংস্কার এবং আগের সরকারের বড় প্রকল্পগুলো পর্যালোচনা করা। তবে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক স্বজনপ্রীতি ও দুর্বল তদারকির কারণে এসব সংস্কার বাস্তবায়নে সময় লাগবে।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করাও নতুন সরকারের অন্যতম চ্যালেঞ্জ। সরকারপন্থি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ইনফরমারের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী আন্দোলনকারীদের নিয়ে নেতিবাচক প্রচার চালানোর অভিযোগ রয়েছে। নির্বাচনের পর সাংবাদিক সংগঠনগুলো চ্যানেলটির সম্প্রচার লাইসেন্স বাতিলের আবেদন করেছে। তবে শিক্ষার্থীরা গণমাধ্যমের কার্যালয়ে হামলার বিরোধিতা করে প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় সংস্কারের কথা বলেছে।
এদিকে, শিক্ষার্থীদের বিজয়ের পর ভুচিচের সমর্থকদের ব্যবহৃত একটি শিবির ভাঙচুর এবং সরকারপন্থি টেলিভিশন চ্যানেলের কার্যালয়ে বিক্ষোভকারীদের প্রবেশের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। শিক্ষার্থী আন্দোলন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
পররাষ্ট্রনীতিও নতুন সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হবে। সার্বিয়া দীর্ঘদিন ধরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও রাশিয়ার সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখেছে। ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে রাশিয়ার ওপর ইইউর নিষেধাজ্ঞায় যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় সার্বিয়ার ইইউতে যোগদানের প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়েছে। শিক্ষার্থীদের তালিকার কয়েকজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রাশিয়ার বিষয়ে দেশটির নীতিতে পরিবর্তন আসবে না। ফলে ইউরোপের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক প্রত্যাশীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হতে পারে।
নির্বাচনে বড় জয় পেলেও শিক্ষার্থীদের এখন দুর্নীতি দমন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও বিচারব্যবস্থার সংস্কারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে হবে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক বিভাজন সামলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই নতুন সরকারকে জনগণের পরিবর্তনের প্রত্যাশা পূরণ করতে হবে।
তথ্যসূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









