মাদক ব্যবসার শীর্ষ পর্যায়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম। তিনি বলেছেন, অসংখ্য ছাত্রদল নেতাকর্মী মাদকসহ গ্রেপ্তার হয়েছেন এবং তাঁদের অনেককে দল থেকে বহিষ্কারও করা হয়েছে। সীমান্তে কঠোর নজরদারি থাকা সত্ত্বেও দেশে মাদক প্রবেশ করছে। এর সঙ্গে বিজিবি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাংশের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) লালমনিরহাট জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে লালমনিরহাট সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রশিবির আয়োজিত একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ‘ক্যারিয়ার গাইডলাইন ও নবীনবরণ-২০২৬’ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, মাদক নির্মূলে সরকারের সদিচ্ছার অভাব রয়েছে। তরুণ প্রজন্মকে মাদকে আসক্ত করে দলীয় সংকীর্ণ স্বার্থ বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে। এভাবে কোনো জাতি এগিয়ে যেতে পারে না। তরুণ প্রজন্ম মাদকে আসক্ত হলে দেশের ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে পড়বে। এ বিষয়ে সরকারের প্রধান ব্যক্তির আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
মাদক সিন্ডিকেটের বিস্তৃতি তুলে ধরে শিবির সভাপতি বলেন, মাদক সমস্যা শুধু উত্তরবঙ্গ বা লালমনিরহাটের পাটগ্রামকেন্দ্রিক নয়। মিয়ানমার ও ভারতের সীমান্ত দিয়ে ইয়াবা ও আইসের মতো ভয়ংকর মাদক দেশে প্রবেশ করছে। অথচ মূল হোতাদের আইনের আওতায় না এনে কেবল খুচরা বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, মাদক সিন্ডিকেট এতটাই শক্তিশালী যে, ঢাকায় ইশরাক নামের একজন প্রতিমন্ত্রী মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান পরিচালনার পরদিনই তাঁকে পদ হারাতে হয়েছে। একজন মন্ত্রীকেও মাদক সিন্ডিকেট সরিয়ে দিতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানের স্থান নির্ধারণ নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন নুরুল ইসলাম সাদ্দাম। তিনি বলেন, অনুষ্ঠানটি লালমনিরহাট সরকারি কলেজের হলরুমে আয়োজনের কথা থাকলেও কর্তৃপক্ষ অনুমতি দেয়নি। বিএনপি ক্ষমতায় থেকেও বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংকীর্ণ রাজনৈতিক মনোভাবের পরিচয় দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। দেশকে আবারও স্বৈরাচারী ধারায় পরিচালনার চেষ্টা চলছে বলেও মন্তব্য করেন। তবে অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ছাত্রশিবিরের কর্মসূচির প্রতি তাঁদের আগ্রহের প্রমাণ বলে দাবি করেন তিনি।
সম্প্রতি প্রকাশিত এইচএসসি পরীক্ষার ফল বিপর্যয়ের জন্য শিক্ষাব্যবস্থার কাঠামোগত ত্রুটিকে দায়ী করেন শিবির সভাপতি। তাঁর মতে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রকৃত শিক্ষার মানোন্নয়নের পরিবর্তে এ-প্লাসের সংখ্যা বাড়ানোর প্রবণতা তৈরি হয়েছিল। ফলে ভালো ফলাফলধারী তৈরি হলেও মানসম্মত শিক্ষিত প্রজন্ম গড়ে ওঠেনি। এবার ভিন্নধর্মী প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা হওয়ায় বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে। এ দায় সরকার এড়াতে পারে না।
তিনি বলেন, দেশের কলেজগুলোতে পর্যাপ্ত ল্যাব, শিক্ষক ও শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেই। পাশাপাশি ভাষা শিক্ষার সুযোগ এবং প্রয়োজনীয় বাজেটেরও ঘাটতি রয়েছে।
শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষাব্যবস্থার আধুনিকায়নে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে ৩০ দফা দাবি জানানো হয়েছিল। শিক্ষা খাতে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ থেকে ৬ শতাংশ এবং জাতীয় বাজেটের ১৫ থেকে ১৬ শতাংশ বরাদ্দ দিতে হবে। বর্তমানে শিক্ষা খাতে যে বরাদ্দ দেওয়া হয়, তার বড় অংশ অবকাঠামো উন্নয়ন ও শিক্ষকদের বেতন-ভাতায় ব্যয় হয়। ফলে শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে পর্যাপ্ত অর্থ ব্যয় করা সম্ভব হচ্ছে না।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন লালমনিরহাট জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ফিরোজ হায়দার লাভলু, জেলার সাবেক আমির আতাউর রহমান, জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আশরাফুল আলম সালেহী, লালমনিরহাট সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি হাফিজুর রহমানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









