সিরাজগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ভবনটি নির্মিত হয় ১৯৬১ সালে। এরপর কয়েকবার মেরামত ও সংস্কার করা হলেও বর্তমানে ভবনটির অবস্থা ভয়াবহ। ভবনের ভীম চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গেছে, ছাদের প্লাস্টার খসে পড়ছে। বৃষ্টি হলেই ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের ব্যারাক ও স্টেশন ইনচার্জের রুম দিয়ে পানি পড়ে।
একই অবস্থা গাড়ির গ্যারেজেরও। ছাদের ভীম ফেটে চৌচির, পানি পড়ছে নিরবচ্ছিন্নভাবে। যে কোনো মুহূর্তে ঘটতে পারে দুর্ঘটনা। একান্ত আলাপচারিতায় সিরাজগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস স্টেশন অফিসার শরিফুল ইসলাম বলেন, “পাঁচ দশমিক পাঁচ মাত্রার ভূমিকম্পেই ভবনটি ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে প্রতিনিয়ত আমরা আতঙ্কের মধ্যে কাজ করি।”
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুর রহমান জানান, নতুন ভবন নির্মাণের জন্য গণপূর্ত বিভাগসহ উর্ধ্বতন অফিসে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, গত বছরের ৪ নভেম্বর সিরাজগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসকে দ্বিতীয় শ্রেণী থেকে প্রথম শ্রেণীতে উন্নীত করার জন্য আবেদন করা হয়, যার প্রক্রিয়া এখন অনেকটা এগিয়েছে। বিভিন্ন দপ্তরে কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এছাড়া যমুনা নদী প্রবণ এলাকা হওয়ায় জেলায় একটি ডুবুরি ইউনিট স্থাপনের জন্যও গত বছরের ১৪ জুলাই এবং পরে ৪ নভেম্বর আবেদন করা হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিসের লিডার আব্দুর রহমান বলেন, “বৃষ্টি হলেই ব্যারাক দিয়ে পানি পড়ে। সাধারণ ফায়ার ফাইটাররা ভীষণ কষ্টে দিন কাটাচ্ছে। আমি যে রুমে থাকি তার ছাদও খসে পড়ছে। আমরা সবসময় আতঙ্কে থাকি।”
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহমাদুল হক জানান, “ভবন নির্মাণের প্রয়োজনীয় বিষয়ে আমরা একটি চিঠি পেয়েছি। এ সপ্তাহেই প্রতিবেদন দেব। প্রথম শ্রেণীর ফায়ার স্টেশন হলে লোকবল, গাড়ি ও আধুনিক ইকুইপমেন্ট আসবে। এজন্য অবশ্যই বড় পরিসরের নতুন ভবন প্রয়োজন।”
রাজশাহী বিভাগের উপ-পরিচালক আসাদুজ্জামান বলেন, “নতুন ভবন নির্মাণ হবে। তবে প্রথম শ্রেণীর ফায়ার সার্ভিসে উন্নীত করার প্রক্রিয়া বাস্তবায়নে কিছুটা সময় লাগবে। সিরাজগঞ্জ যমুনা নদী অধ্যুষিত হওয়ায় প্রতি বছর নৌ-ডুবি ও পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এ কারণে ডুবুরি ইউনিটের প্রয়োজনীয়তা থাকলেও বাস্তবায়নে আরও ২০ থেকে ২৫ বছর সময় লাগতে পারে।”
উল্লেখ্য, প্রথম শ্রেণীর জেলা হিসেবে সিরাজগঞ্জে ইতোমধ্যে আট থেকে দশতলা বিশিষ্ট ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। ব্যবসা-বাণিজ্যের হাব হিসেবে পরিচিত হলেও এখানে এখনও দ্বিতীয় শ্রেণীর ফায়ার স্টেশন রয়েছে, যার যন্ত্রপাতি ও জনবল অপর্যাপ্ত। অথচ প্রথম শ্রেণীর ফায়ার স্টেশনে থাকার কথা বড় চারটি গাড়ি, একটি অ্যাম্বুলেন্স ও অধিকসংখ্যক দক্ষ জনবল।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









