বরগুনায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করার অভিযোগে এক যুবলীগ নেতার স্ত্রীসহ দুই পরীক্ষার্থীকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) বিকেলে বরগুনা শহরের পৃথক দুটি পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে তাদের আটক করা হয়।
আটকরা হলেন-বরগুনা সরকারি কলেজ কেন্দ্রের ৩০২ নম্বর কক্ষের পরীক্ষার্থী ইয়ামনি এবং আইডিয়াল কলেজ কেন্দ্রের ১০৭ নম্বর কক্ষের পরীক্ষার্থী রাসেল মিয়া। ইয়ামনি বরগুনা সদর উপজেলার আয়লাপাতাকাটা ইউনিয়ন যুবলীগের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট ইসমাইল হোসেন রাসেলের স্ত্রী।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পরীক্ষার সময় ইয়ামনির গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে তল্লাশি চালিয়ে তার কাছ থেকে একটি কমিউনিকেটিভ ইলেকট্রনিক ডিভাইস (মাস্টার কার্ড), একটি পিন, সিম ও কানের ভেতরে ব্যবহৃত ডিভাইস উদ্ধার করা হয়। অপরদিকে রাসেল মিয়ার কাছ থেকে একটি স্মার্টফোন জব্দ করা হয়েছে।
বরগুনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল আলীম জানান, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই)-এর দেওয়া গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোতে নজরদারি জোরদার করা হয়। এ সময় ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহারের অভিযোগে দুই পরীক্ষার্থীকে হাতেনাতে আটক করা হয়।
তিনি আরও জানান, আটক রাসেল মিয়াকে দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাফর আরিফ চৌধুরী ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করে কারাগারে পাঠিয়েছেন। অপরদিকে ইয়ামনির বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
একাধিক পরীক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, শুধু ডিভাইস উদ্ধার নয়, এর পেছনে থাকা প্রশ্নফাঁস ও ডিভাইস সরবরাহকারী চক্রকে শনাক্ত করা জরুরি। তাদের দাবি, তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে পুরো নেটওয়ার্ক উন্মোচিত হতে পারে।
এ বিষয়ে অভিযুক্তের স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মুঠোফোন বন্ধ থাকায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









