নাটোরের সিংড়া উপজেলার ইটালি ইউনিয়নের শালমারা গ্রামে ইসলামি জালসা উপলক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে ৮৩ বছরের পুরনো ঐতিহ্যবাহী মাছ ধরা উৎসব। দীর্ঘদিনের এই লোকজ উৎসবটি রবিবার (১১ জানুয়ারি) দিনব্যাপী আয়োজন করা হয়, যা ঘিরে পুরো গ্রামজুড়ে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।
সকাল থেকেই শালমারা গ্রামের একাধিক পুকুরপাড়ে জড়ো হতে থাকেন শত শত মানুষ। মাছ ধরার আনন্দে অংশ নিতে গ্রামের শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে যুবক ও বয়স্করাও পুকুরে নেমে পড়েন। কেউ নৌকা নিয়ে, কেউ কলাগাছের ভেলা বানিয়ে আবার কেউ জাল হাতে নিয়ে মাছ ধরায় অংশ নেন। পুকুরজুড়ে চলে আনন্দঘন প্রতিযোগিতা।
সরেজমিনে দেখা যায়, মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে পুকুরপাড়ে সৃষ্টি হয়েছে এক মিলনমেলার দৃশ্য। শুধু স্থানীয় গ্রামবাসীই নয়, আশপাশের বিভিন্ন গ্রাম ও দূর-দূরান্ত থেকে আত্মীয়-স্বজন ও দর্শনার্থীরাও এই উৎসব উপভোগ করতে আসেন। ফলে পুরো এলাকা পরিণত হয় জনসমুদ্রে।
উৎসবে অংশ নেওয়া শিকারিরা কারও জালে ধরেন রুই, কাতলা, মৃগেলসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। জাল টানার সময় হইহুল্লোড়, উচ্ছ্বাস আর হাসি-আনন্দে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। বড় মাছ ধরতে পারলে শিকারিদের চোখেমুখে ফুটে ওঠে আলাদা আনন্দ ও উচ্ছ্বাস।
মাছ শিকারিরা জানান, এখানে মাছ পাওয়া আসল উদ্দেশ্য নয়। শত বছরের পুরনো এই ঐতিহ্যকে ধরে রাখা, একসঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করা এবং সামাজিক বন্ধনকে আরও দৃঢ় করাই এই উৎসবের মূল আকর্ষণ। তারা বলেন, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই উৎসব চলে আসছে, যা গ্রামবাংলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
স্থানীয় প্রবীণরা জানান, প্রায় ৮৩ বছর আগে এই মাছ ধরা উৎসবের সূচনা হয়। ইসলামি জালসাকে কেন্দ্র করে শুরু হলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি গ্রামবাসীর সর্বজনীন আনন্দের উৎসবে পরিণত হয়েছে। নতুন প্রজন্মের মাঝেও এই ঐতিহ্য ধরে রাখার আগ্রহ দেখে তারা আশাবাদী।
গ্রামবাসীদের মতে, এই ধরনের উৎসব হারিয়ে যাওয়া গ্রামবাংলার সংস্কৃতিকে নতুন করে প্রাণবন্ত করে তোলে এবং মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বন্ধন আরও দৃঢ় করে।
কাওছার/এদিন


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









