পিরোজপুর এলজিইডির তালিকাভুক্ত ঠিকাদাররা ব্রিজ, কালভার্ট নির্মাণসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কাজের কোটি কোটি টাকার বকেয়া বিল না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। নিজেদের অর্থ ব্যয় করে কাজ সম্পন্ন করলেও গত দুই বছর ধরে এলজিইডি থেকে কোনো বিল পরিশোধ না হওয়ায় তারা আর্থিক ও সামাজিকভাবে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন। ঠিকাদারদের অভিযোগ, রড, সিমেন্টসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বকেয়া পরিশোধ করতে না পেরে এবং ব্যাংক ঋণের কিস্তি দিতে না পারায় তারা নানা ধরনের অপমান-অপদস্তের শিকার হচ্ছেন।
সোমবার (৬ এপ্রিল) দুপুরে স্বরূপকাঠীর একটি গণমাধ্যম কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পিরোজপুর এলজিইডির আইভিআরপি প্রকল্পের বঞ্চিত ঠিকাদাররা তাদের দুর্দশা লাঘবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীসহ সরকারের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে হিযবুল্লা বিল্ডার্সের পক্ষে মো. আইউব আলী লিখিত বক্তব্যে ঠিকাদারদের দুর্দশার কথা তুলে ধরেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন জিয়াউল অ্যান্ড ব্রাদার্সের স্বত্বাধিকারী রফিকুল ইসলাম, কোহিনূর এন্টারপ্রাইজের প্রতিনিধি মো. বাচ্চু মিয়া প্রমুখ।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ২০২৩-২৪ ও ২০২৪-২৫ অর্থবছরে পিরোজপুর এলজিইডির কার্যাদেশ পেয়ে তারা সড়ক, সেতু ও কালভার্ট নির্মাণের কাজ শুরু করেন। এর মধ্যে কিছু কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং কিছু কাজ চলমান রয়েছে। কিন্তু দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে কোনো বিল পরিশোধ করা হয়নি।
ঠিকাদার আইউব আলী বলেন, ২০২৪ সালে হিযবুল্লা বিল্ডার্স কার্যাদেশ পেয়ে এক কোটি ১৫ লাখ টাকা ব্যয়ে মাদ্রা-ঝালকাঠি সড়কে একটি আয়রন ব্রিজ নির্মাণ করে বিল জমা দিলেও গত দুই বছরে এক টাকাও পাননি।
অন্যদিকে ঠিকাদার রফিকুল ইসলাম জানান, ইন্দুরহাট ও মিয়ারহাট বন্দরের সংযোগ স্থাপনে এক কোটি ৮৭ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি আয়রন ব্রিজ নির্মাণের কাজ প্রায় ৮০ শতাংশ সম্পন্ন হলেও অর্থের অভাবে কাজ বন্ধ রাখতে হয়েছে। এতে স্থানীয় জনগণ দুর্ভোগে পড়ছে এবং ক্ষুব্ধ হয়ে ঠিকাদারদের দোষারোপ করছে।
ঠিকাদারদের অভিযোগ, সাবেক এমপি মহিউদ্দীন মহারাজ ও তার ভাই মিরাজুল ইসলামসহ একটি দুর্নীতিবাজ চক্রের বিরুদ্ধে তদন্তের অজুহাতে এলজিইডি বিল পরিশোধে গড়িমসি করছে। ফলে সাধারণ ঠিকাদাররা নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে পিরোজপুর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আজিজুর রহমানের ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
তবে নেছারাবাদ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাইসুল ইসলাম বলেন, পিরোজপুর এলজিইডির বিভিন্ন প্রকল্প নিয়ে দুদকের মামলা চলমান রয়েছে। সে কারণে হয়তো ঠিকাদারদের বিল পরিশোধে বিলম্ব হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে পিরোজপুর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আজিজুর রহমানই বিস্তারিত বলতে পারবেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









