জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে অটোপাশের দাবিকে কেন্দ্র করে আবারও সহিংসতার ঘটনায় জত্তাল জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ডিগ্রি তৃতীয় বর্ষের আন্দোলনরত একদল শিক্ষার্থী জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের গাড়িতে হামলা চালিয়ে তাকে নাজেহাল করে।
সোমবার (৬ এপ্রিল) দুপুরে গাজীপুরে অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাস থেকে ঢাকায় ফেরার পথে এই হামলার ঘটনা ঘটে।
উপাচার্যের গাড়ি ক্যাম্পাস এলাকা ত্যাগ করার পরপরই একদল বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী গাড়ির পথরোধ করে। তারা অটোপাশের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকে এবং একপর্যায়ে গাড়িতে আঘাত হানে। এতে গাড়ির কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং উপাচার্য মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। নিরাপত্তা কর্মীরা দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ধস্তাধস্তির ঘটনাও ঘটে।
এটি প্রথম ঘটনা নয়। এর আগে ২১ মে ২০২৫ তারিখে একই দাবিতে আন্দোলনরত ২০২২ সালের স্নাতক (পাস) পরীক্ষার্থীদের হামলায় প্রথমবারের মতো আহত হন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ। সেই ঘটনার পরও প্রশাসন অটোপাশের দাবিতে অনড় অবস্থান নেয়, যা বর্তমান পরিস্থিতিকে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ঘটনার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে উপাচার্য বলেন, “শিক্ষার্থীদের অন্যায্য দাবি এবং অযৌক্তিক আবদারের সঙ্গে কখনোই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সহানুভূতি দেখাতে পারে না। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কোনো অটোপাশকে সমর্থন করে না।”
তিনি আরও বলেন, “শিক্ষার গুণগত মান বজায় রাখতে হলে এ ধরনের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।”
অটোপাশের দাবি নাকচ করে উপাচার্য আরও কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দেন। তিনি জানান, ভবিষ্যতে শিক্ষার মানোন্নয়নের স্বার্থে অটোপাশ ও অতিরিক্ত গ্রেস মার্ক প্রদানের প্রবণতা নিরুৎসাহিত করা হবে। প্রয়োজনে এ বিষয়ে আরও কঠোর নীতিমালা গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের একটি সূত্র জানায়, অটোপাশ চালু করা হলে তা কেবল জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় নয়, দেশের সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এতে শিক্ষার মান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের সনদের গ্রহণযোগ্যতাও প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।
এদিকে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ দাবি করছে, বিভিন্ন কারণে তারা নিয়মিত ক্লাস ও পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি, যার জন্য তারা বিশেষ বিবেচনায় অটোপাশের দাবি জানাচ্ছে। তবে প্রশাসন তাদের এই দাবি ‘অযৌক্তিক’ হিসেবে বিবেচনা করছে।
বর্তমানে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করছে। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দ্রুত সংলাপের মাধ্যমে সমাধান না হলে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যেতে পারে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









