পশ্চিম সুন্দরবন সাতক্ষীরারেঞ্জের আওতায় শুক্রবার(১০ এপ্রিল) বনবিভাগের নিয়মিত টহল চলাকালে ডাকাত সন্দেহে একদল দুস্কৃতিকারীদের সাথে বনরক্ষীদের গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে।
বিকাল ৩টার দিকে কোবাদক ষ্টেশনের সুন্দরবনের কঞ্চি খালের বাইনতলা এলাকায় এই শ^াসরুদ্ধকর অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে ডাকাতদল পালিয়ে গেলেও ঘটনাস্থল থেকে তিনটি দেশিয় আগ্নেয়াস্ত্র ও চারটি কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে।
বনবিভাগ সাতক্ষীরারেঞ্জ কর্মকর্তার কার্যালয়ে দেশিয় আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা প্রেস ব্রিফিং করেন খুলনা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এ জেড এম হাছানুর রহমান। এসময় উপস্থিত ছিলেন বনবিভাগ সাতক্ষীরারেঞ্জ কর্মকর্তা মশিউর রহমান সহ বনবিভাগের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।
বনবিভাগ সুত্রে প্রকাশ, সুন্দরবনের সম্পদ রক্ষা ও বনজীবিদের নিরপত্তায় বনবিভাগ সাতক্ষীরারেঞ্জের একটি বিশেষ টহল দল শুক্রবারে নিয়মিত অভিযানে বের হয়। বিকেল ৩টার দিকে টহল দলটি সুন্দরবনের কঞ্চি খালের বাইনতলা এলাকায় যখন পৌঁছায় তখন বনের গভীর অংশে ৭/৮ জন সন্দেহভাজন ব্যক্তির আনাগোনা ও সন্দেহজনক গতিবিধি লক্ষ্য করেন বনরক্ষীরা। টহল দলটির উপস্থিতি বুঝতে পেরে দুস্কৃতিকারীরা পালানোর চেষ্টা করলে বনরক্ষীরা ধাওয়া করে।
এসময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং জননিরাপত্তা রক্ষার্থে বনবিভাগের বিশেষ টিম সাত রাউন্ড ফাঁকা গুলি বর্ষণ করে। গুলির শব্দে ও বনরক্ষীদের কঠোর অবস্থানের মুখে টিকতে না পেরে দুস্কৃতিকারীরা গভীর বনের মধ্যে পালিয়ে যায়। অভিযানশেষে বনবিভাগ সদস্যবৃন্দ ব্যাপক তল্লাসী চালায় ঘটনাস্থলে। তল্লাসীকালে সুন্দরবনের ঝোপঝাড়ের আড়াল থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় তিনটি দেশিয় আগ্নেয়াস্ত্র (একনলা বন্দুক) ও চারটি তাজা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত এই আলামত বর্তমানে বনবিভাগের হেফাজতে রয়েছে।
বনবিভাগ জানায় দস্যুদের সনাক্ত করতে ও গ্রেফতারের লক্ষে সুন্দরবনের বিভিন্ন পয়েন্টে চিরুণি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সাধারণ জেলে -বাওয়ালী -মেীয়ালীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বনের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে টহল কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে।
এবিষয়ে শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার, বনবিভাগের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ,শ্যামনগর থানাকে অবহিত করা হয়েছে। বনবিভাগ জানায় এ ব্যাপারে বিধিমোতাবেক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্ততি চলছে ।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









