নোয়াখালীর হাতিয়ায় সাত বছর বয়সী এক শিশুকে ঘিরে নির্যাতনচেষ্টার অভিযোগে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ঘটনাটি আইনগতভাবে নিষ্পত্তি না হয়ে স্থানীয় সালিশের মাধ্যমে ৩০ হাজার টাকার বিনিময়ে মীমাংসা করা হয়েছে।
অভিযুক্ত মো. মোছলেউদ্দিন (৬০) হাতিয়া পৌরসভার চৌমুহনী এলাকার বাসিন্দা এবং ভুক্তভোগী শিশুর আত্মীয়। পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শিশুটির বাবা বিদেশে থাকায় মা সন্তানদের নিয়ে বাড়িতে বসবাস করতেন। এ অবস্থায় অভিযুক্ত ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে শিশুটির মাকে বিভিন্নভাবে বিরক্ত ও কুপ্রস্তাব দিত বলে অভিযোগ রয়েছে।
গত ১৭ মার্চ শিশুটির মা বাজারে গেলে, ওই সময় শিশুটিকে একা পেয়ে অভিযুক্ত তাকে কোলে করে পুকুরপাড়ে নিয়ে যায় এবং অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার চেষ্টা করে বলে পরিবারের দাবি। শিশুটির চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে।
পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার পর থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও কোনো কার্যকর প্রতিকার পাওয়া যায়নি। বরং বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার পরামর্শ দেওয়া হয়। পরে প্রায় তিন সপ্তাহ পর স্থানীয় কয়েকজনের উপস্থিতিতে সালিশ বৈঠক বসে এবং সেখানে ৩০ হাজার টাকার বিনিময়ে বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হয়।
সালিশে অংশ নেওয়া এক ব্যক্তি জানান, তাদের কাছে অভিযোগের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ মেলেনি। তবে শিশুকে আঘাত করার ঘটনায় অভিযুক্তকে জরিমানা করা হয়। জরিমানার টাকা স্থানীয়ভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
অন্যদিকে ভুক্তভোগী শিশুর মা অভিযোগ করেন, তাকে মামলা প্রত্যাহারের জন্য চাপ দেওয়া হয়েছে এবং তিনি ন্যায়বিচার পাননি। তিনি পুলিশ ও সালিশ সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
অভিযুক্ত ব্যক্তি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এটি পারিবারিক বিরোধ থেকে সৃষ্টি হওয়া একটি ঘটনা, যা সামাজিকভাবে সমাধান হয়েছে।
হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন জানান, অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে ধর্ষণচেষ্টার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তিনি দাবি করেন, এটি মূলত পারিবারিক বিরোধের জেরে সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ এ ধরনের কোনো সালিশে জড়িত নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সংবেদনশীল একটি অভিযোগকে ঘিরে আইনি প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে সালিশে নিষ্পত্তির ঘটনা স্থানীয়ভাবে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে শিশু নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণে সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









