ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলা উপজেলার নদীতীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকায় এবার ভুট্টা সংগ্রহকে কেন্দ্র করে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। মাঠজুড়ে সোনালি ভুট্টার সমারোহ আর কৃষকের ঘরে ফিরেছে নতুন স্বপ্ন। চলতি মৌসুমে বাম্পার ফলনে অনেক কৃষকের মুখে ফুটেছে তৃপ্তির হাসি।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ মৌসুমে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের খোলা মাঠ ও পতিত জমিতে ব্যাপকভাবে ভুট্টা আবাদ হয়েছে। ধানের তুলনায় খরচ ও ঝুঁকি কম এবং লাভ বেশি হওয়ায় কৃষকরা ভুট্টা চাষে ঝুঁকছেন।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, বর্তমানে প্রতি মন শুকনা ভুট্টা এক হাজার থেকে ১১০০ টাকা এবং কাঁচা ভুট্টা ১৩০০ থেকে ১৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাইকার ও ফিড মিল ব্যবসায়ীরা সরাসরি মাঠে এসে ভুট্টা কিনে নিচ্ছেন। এতে কৃষকরা সহজেই ভালো দাম পাচ্ছেন এবং বাজারজাতকরণেও ভোগান্তি কম হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “বাঞ্ছারামপুরে এ বছর মোট ৪৪৫ হেক্টর জমিতে ভুট্টার আবাদ হয়েছে। বিঘা প্রতি গড়ে ৩৫ থেকে ৪০ মন ফলন পাওয়া যাচ্ছে, যা হেক্টরপ্রতি প্রায় ১০ থেকে ১২ টনের সমান। ভুট্টার বাজার দরও বর্তমানে কৃষকদের অনুকূলে রয়েছে।”
তিনি আরো জানান, বিঘা প্রতি ভুট্টা চাষে খরচ হচ্ছে প্রায় ১৫ থেকে ১৬ হাজার টাকা, আর লাভ থাকছে গড়ে ২০ থেকে ২২ হাজার টাকা। কৃষকদের উন্নতমানের বীজ, সার, কীটনাশক ব্যবস্থাপনা ও আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি বিষয়ে নিয়মিত পরামর্শ ও সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তারা বলছেন, এ অঞ্চলের অনাবাদি ও কম উৎপাদনশীল জমিতে ভুট্টা চাষ বাড়ানো গেলে কৃষকের আয় আরও বাড়বে। পাশাপাশি দেশের পশুখাদ্য শিল্পেও বড় ভূমিকা রাখবে এই উৎপাদন।
সব মিলিয়ে ভুট্টা চাষ এখন বাঞ্ছারামপুরের গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। আগামী মৌসুমে আরও বেশি জমিতে ভুট্টা আবাদ হবে বলে আশা করছেন কৃষি বিভাগ ও স্থানীয় কৃষকরা।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









