লাল মাটির ক্যাম্পাস খ্যাত কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে গ্রীষ্মের শুরুতেই মুগ্ধতা ছড়ায় হরেক রকমের ফুল। এর মধ্যে অন্যতম ক্যাসিয়া জাভানিকা, যা স্থানীয়ভাবে ‘লাল সোনাইল’ নামেও পরিচিত। বিরল প্রজাতির এই ফুল গ্রীষ্মকালীন সুন্দরতম ফুলগুলোর একটি। তীব্র খরতাপে যখন চারদিক খাঁ খাঁ করে, তখন এই ফুল যেন এনে দেয় চোখের প্রশান্তি।
লাল সোনাইল দেশের দুর্লভ ফুলের মধ্যে অন্যতম। এর বৈজ্ঞানিক নাম ক্যাসিয়া জাভানিকা। গ্রীষ্মকালীন এই ফুল বাংলাদেশ, ভারত, মায়ানমার, জাপান ও ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন উষ্ণমণ্ডলীয় অঞ্চলে ফোটে। দ্রুত বর্ধনশীল এই গাছ মাঝারি আকৃতির। এর ফুল থোকায় থোকায় ফোটে এবং বীজ লম্বাটে শুঁটির মতো দণ্ডে থাকে। অল্পবয়সী গাছগুলো দেখতে অনেকটা ছাতার মতো। অনেকের বিশ্বাস, ক্যাসিয়া জাভানিকা সৌভাগ্যের প্রতীক।
গ্রীষ্মের তীব্র তাপদাহে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতেই মন জুড়িয়ে যায় এই ফুলের সৌন্দর্যে। প্রধান ফটক দিয়ে ঢুকতেই রাস্তার দুপাশে অভ্যর্থনা জানায় গোলাপি আভাযুক্ত ক্যাসিয়া জাভানিকা। কুবিতে গ্রীষ্মকালীন ফুল পরিবারের নবীন সদস্য এই গাছটি মাত্র তিন বছর আগে কুবি ক্যাম্পাসে যুক্ত হয়।
কুবি ক্যাম্পাসে জারুল, কৃষ্ণচূড়া, সোনালুসহ নানা প্রজাতির গ্রীষ্মকালীন ফুল থাকলেও প্রতিবছর গ্রীষ্মের শুরুতে সবার আগে লাল মাটির ক্যাম্পাসকে অলংকৃত করতে হাজির হয় ক্যাসিয়া জাভানিকা। প্রধান ফটকের দুপাশ ছাড়াও মুক্তমঞ্চের পাশেও দেখা যায় এ ফুল।
ক্যাসিয়া জাভানিকার সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী মেহেরুন্নেছা আশা বলেন, “ক্যাসিয়া জাভানিকা ফুলে সাজানো কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস সত্যিই দারুণ সুন্দর লাগে। গ্রীষ্মের এই তীব্র গরমে যখন ক্লাস কিংবা অন্যান্য কাজে ক্যাম্পাসে আসি, তখন প্রধান ফটক দিয়ে প্রবেশ করতেই রাস্তার দুপাশে ফুটে থাকা পিংক ক্যাসিয়া জাভানিকা ফুল যে কাউকেই মুগ্ধ করবে। প্রকৃতি যেন আমাদের ক্লান্তি দূর করার জন্যই এমন সৌন্দর্য ছড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে বিকেলের আলোয় ফুলগুলো বেশ নান্দনিক দেখায়।”


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









