“ফ্যাসিবাদ আমলে সবচেয়ে বেশি বৈষম্যের শিকার হয়েছে মাদ্রাসা শিক্ষিতরা”—এমন মন্তব্য করেছেন মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান মিঞা মোহাম্মদ নুরুল হক।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলা পরিষদ হলরুমে দাখিল পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন উপলক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
হাতিয়া উপজেলা মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও সুখচর আজহারুল উলুম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আবদুল গফুরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় মোহাম্মদ নুরুল হক বলেন, “নব্বই শতাংশ মুসলমানের দেশে মাদ্রাসা শিক্ষাকে প্রধান ধারার শিক্ষা ব্যবস্থা হিসেবে গ্রহণ না করা অত্যন্ত হতাশাজনক।”
বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনামলে পুলিশসহ বিভিন্ন সামরিক ও বেসামরিক চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে মাদ্রাসা সনদধারীদের সঙ্গে চরম বৈষম্য করা হয়েছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, “২০২৪ সালের আন্দোলনে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তারা রাস্তায় নেমেছে, ত্যাগ স্বীকার করেছে এবং বৈষম্যমুক্ত দেশ গঠনে অবদান রেখেছে।”
আগামীতে মাদ্রাসা শিক্ষিতদের প্রতি কোনো ধরনের বৈষম্য না করার জন্য সরকার ও সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানান মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান।
সভায় বক্তারা হাতিয়ার শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি তুলে ধরেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— দ্বীপাঞ্চল হওয়ায় হাতিয়ার শিক্ষকদের জন্য বিশেষ দ্বীপ ভাতা চালু, ইবতেদায়ী স্তরে শিক্ষক সংকট নিরসনে এনটিআরসিএ নিয়োগ পদ্ধতির সংস্কার এবং মাদ্রাসা কারিকুলামে আরবি বিষয়ের গুরুত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা।
সভায় আরও বক্তব্য রাখেন হাতিয়া রহমানিয়া মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা বাহা উদ্দিন, চরকৈলাশ হাদিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা শামছুল হুদা, জাহাজমারা ছেরাজুল উলুম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আবুল কাশেম, চরচেঙ্গা ইসলামিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আশিকুর রহমান যোবায়ের, তমরদ্দি আহমদিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা নুরুল হক, হাতিয়া রহমানিয়া মাদ্রাসার সহ-অধ্যাপক মাওলানা আবদুর রহিম এবং প্রভাষক মাওলানা ফয়েজুল বারী তারিফসহ অন্যান্যরা।
মতবিনিময় সভা শেষে বোর্ড চেয়ারম্যান শিক্ষকদের উত্থাপিত দাবিগুলো বিবেচনায় নেওয়ার আশ্বাস দেন। পাশাপাশি তিনি শিক্ষকদের ব্যক্তিগত অধ্যয়ন বৃদ্ধি, পাঠদানের মানোন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের আগ্রহ ধরে রাখার কৌশল সম্পর্কে দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
এসময় হাতিয়ার বিভিন্ন মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষিকা, সাবেক শিক্ষক ও স্থানীয় সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









