ভারত থেকে অবৈধ অনুপ্রবেশ, চোরাচালান ও সীমান্তবর্তী অপরাধ ঠেকাতে যশোরের শার্শা উপজেলা এবং বেনাপোল সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বুধবার (৬ মে) রাত থেকে সীমান্তজুড়ে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি, শক্তিশালী করা হয়েছে টহল কার্যক্রম এবং মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত বিজিবি সদস্য। ফলে সীমান্ত এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যেও স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
বিজিবি সূত্র জানায়, যশোর ৪৯ বিজিবি এবং খুলনা ২১ বিজিবির আওতাধীন প্রায় ১০২ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় বর্তমানে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু রয়েছে। বিশেষ করে সীমান্ত পথে অবৈধ অনুপ্রবেশ, মাদক ও বিভিন্ন পণ্যের চোরাচালান রোধে দিন-রাত সমানভাবে অভিযান ও নজরদারি পরিচালনা করা হচ্ছে।
সম্প্রতি ভারতের পশ্চিমবঙ্গে অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনে ক্ষমতাসীন বিজেপি জয় লাভের পর রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নতুন মোড় নিয়েছে। দীর্ঘ প্রায় পনেরো বছর ধরে রাজ্য পরিচালনায় থাকা তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতা হারানোর পর বিভিন্ন স্থানে দলটির নেতাকর্মীদের সঙ্গে বিজেপি সমর্থকদের সংঘর্ষ, পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও উত্তেজনার খবর পাওয়া যাচ্ছে। সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে এ পরিস্থিতির প্রভাব পড়তে পারে এমন আশঙ্কা থেকে বাংলাদেশ সীমান্তে সতর্কতা আরও বাড়িয়েছে বিজিবি। বিশেষ করে অবৈধ অনুপ্রবেশ, সহিংসতায় জড়িতদের সীমান্ত ব্যবহার এবং চোরাচালান ঠেকাতে সীমান্তজুড়ে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট হিসেবে পরিচিত বেনাপোলের রঘুনাথপুর, শিকারপুর, সাদীপুর, ঘিবা, পুটখালী, পাঁচভুলট ও গোগা এলাকায় অতিরিক্ত বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এসব এলাকায় বাড়ানো হয়েছে নিয়মিত টহল কার্যক্রম। পাশাপাশি সন্দেহভাজন চলাচল শনাক্তে সীমান্তজুড়ে সার্বক্ষণিক নজরদারি অব্যাহত রাখা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত এলাকায় বিজিবির উপস্থিতি আগের তুলনায় অনেক বেশি চোখে পড়ছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় টহল জোরদার হওয়ায় সীমান্ত পথে অবৈধ চলাচল অনেকটাই কমে এসেছে। এতে সীমান্তবর্তী জনপদের মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাবোধও বেড়েছে।
বেনাপোল সীমান্ত এলাকার সাদিক হোসেন, আজিজুর রহমানসহ একাধিক বাসিন্দারা বলেন, আগে মাঝেমধ্যে সীমান্ত পথে বিভিন্ন ধরনের অবৈধ যাতায়াত ও চোরাচালানের খবর পাওয়া যেত। এখন বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। নিয়মিত টহল থাকায় অপরাধীরা আগের মতো সহজে সক্রিয় হতে পারছে না।
যশোর ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান বলেন, সীমান্তে যেকোনো ধরনের অনুপ্রবেশ, চোরাচালান ও সীমান্ত অপরাধ দমনে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সীমান্তের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। যাতে কোনো অপরাধী বা অবৈধ অনুপ্রবেশকারী সীমান্ত ব্যবহার করতে না পারে, সে জন্য বিজিবি সদস্যরা দিন-রাত দায়িত্ব পালন করছেন।
তিনি আরও বলেন, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় জনসাধারণের সহযোগিতাও গুরুত্বপূর্ণ। কোনো সন্দেহজনক কার্যক্রম চোখে পড়লে দ্রুত বিজিবিকে তথ্য দেওয়ার জন্য সীমান্তবাসীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিজিবির কর্মকর্তারা জানান, সীমান্ত এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের কঠোর নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









