হাতিয়া উপজেলার নলচিরা ঘাট থেকে চেয়ারম্যান ঘাট নৌরুটে ফেরী চলাচলের উন্নয়ন হলেও সংযোগ সড়কের বেহাল অবস্থায় জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে ফেরীঘাটের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় প্রতিদিন শত শত যাত্রী গাড়ি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাদা ও পানির মধ্য দিয়ে ফেরীতে উঠানামা করছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণের অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কের এমন ভয়াবহ অবনতি নিম্নমানের কাজেরই প্রমাণ। পাশাপাশি নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সড়কটি দ্রুত চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সামান্য জোয়ার এলেই সড়কটি পানির নিচে তলিয়ে যায় তিন থেকে চার ফুট পানির নিছে ফলে অনুপযোগী হয়ে যায়।
স্থানীয় নাহিদুল ইসলাম বলেন, “এখনই যদি এমন অবস্থা হয়, তবে বর্ষা মৌসুম বা পূর্ণ জোয়ারে পুরো সড়ক ব্যবস্থার কী ভয়াবহ পরিণতি হবে, তা সহজেই অনুমেয়।” দীর্ঘ সময় ধরে সড়ক পানির নিচে ডুবে থাকায় নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের চলাচল একপ্রকার অসহনীয় হয়ে উঠেছে। অনেকেই বাধ্য হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছেন। এতে শিক্ষা, চিকিৎসা ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
যাত্রী আরমান হোসেন অভিযোগ করেন, ফেরীতে উঠানামার সময় প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। খাদাখন্ড উচনিছু, পিচ্ছিল ও ডুবে থাকা ঘাটে পড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটছে প্রায়ই, যা যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
শুধু যাত্রী নয়, যানবাহন ওঠানামার সময়ও নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে ফেরীতে বহন করা গাড়ি সামান্য বৃষ্টি বা জোয়ারেই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়।
কাভারভ্যান চালক আজমির হোসেন বলেন, “এই রাস্তা দিয়ে গাড়ি ওঠানামা করা এখন খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেছে। সামান্য পানিতেই চাকা বসে যায়, গাড়ি নিয়ন্ত্রণ রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক সময় পণ্যসহ গাড়ি নিয়ে বিপদে পড়তে হয়, এতে সময় ও অর্থ দুটোই ক্ষতি হচ্ছে।”
ফেরিঘাটের এই বেহাল চিত্রের প্রভাব পড়েছে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যেও। পণ্য পরিবহনে বিলম্ব, অতিরিক্ত সময় নষ্ট হচ্চে ও অনিশ্চয়তার কারণে ব্যবসায়ীরা প্রতিনিয়ত আর্থিক ক্ষতির মুখে পডার আশঙ্কা রয়েছে। ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের জন্য পরিস্থিতি দিন দিন অসহনীয় হয়ে উঠছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলা ও দায়সারা মনোভাবের কারণেই এই সংকট দীর্ঘদিন ধরে চলমান। দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নিলে বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, সমস্যাটি সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। তবে কবে নাগাদ স্থায়ী সমাধান মিলবে, সে বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা জানানো হয়নি।
এদিকে এলাকাবাসীর জোর দাবি, দ্রুত টেকসইভাবে সড়ক সংস্কার করে ফেরীঘাটকে নিরাপদ ও ব্যবহারযোগ্য করা হোক, যাতে জনদুর্ভোগের অবসান ঘটে।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিআইডব্লিউটিএ’র নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ রিসাদ আহমেদ বলেন, হাতিয়ার নলচিরা ঘাটে লো ও মিড ওয়াটার ফেরীঘাট দিয়ে বর্তমানে যাত্রী ও যানবাহন পারাপার চলছে। তবে বর্ষায় জোয়ারে পানির স্তর বেড়ে যাওয়ায় পারাপারে কিছু সমস্যা হচ্ছে। এ কারণে নলচিরা ও চেয়ারম্যানঘাটে হাই ওয়াটার ফেরীঘাট নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং দরপত্রের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলে দ্রুত কাজ শুরু হবে। ততদিন লো ও মিড ওয়াটার ঘাট নিয়মিত মেরামত করে জোয়ার-ভাটার সাথে সমন্বয় করে চালু রাখা হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









