কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার ভবানীপুরের কোমরভোগ ও গণেশপুর এলাকায় নদীভাঙন ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও বালুমহল ইজারা দেওয়াকে ঘিরে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, ভাঙনপ্রবণ এলাকায় বালু উত্তোলনের অনুমতি দিয়ে প্রশাসন জননিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গড়াই নদীর তীরবর্তী এই এলাকায় অতীতে ভয়াবহ নদীভাঙন হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড জিও ব্যাগ ফেলে অস্থায়ীভাবে ভাঙন রোধ করলেও স্থায়ী কোনো বাঁধ নির্মাণ করা হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে চলতি বাংলা বছরের শুরুতেই কোমরভোগ ও গণেশপুর এলাকাকে বালুমহল হিসেবে ইজারা দেওয়া হয়।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ইজারাদার মনিরুল ইসলাম বালু উত্তোলনের প্রস্তুতি নিতে গিয়ে জিও ব্যাগ কেটে যানবাহন চলাচলের রাস্তা তৈরি করেছেন, যা ভাঙনের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। যদিও তিনি দাবি করেন, তিনি আইন মেনে ইজারা নিয়েছেন এবং ভাঙনপ্রবণ স্থানে বালু তুলবেন না। তবে জিও ব্যাগ কাটার বিষয়ে তিনি সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
এদিকে, সহকারী ভূমি কমিশনার মোছা. তাসমিন জাহান জানান, টেন্ডারের মৌজায় "কোমরভোগ" নাম নেই এবং বিষয়টি জানার পর তিনি ওই এলাকায় বালু উত্তোলন সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করেছেন। পাশাপাশি ইজারাদারকে সরঞ্জাম সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এতে প্রশ্ন উঠেছে যদি সংশ্লিষ্ট মৌজার নাম টেন্ডারে না থাকে এবং এলাকাটি ভাঙনপ্রবণ হয়, তবে কীভাবে সেখানে ইজারা দেওয়া হলো? প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ সমন্বয়হীনতা নাকি অন্য কোনো প্রভাব তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আহমেদ মাহবুব-উল-ইসলাম বলেন, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে এবং তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে ইজারা বাতিলও করা হতে পারে বলে তিনি জানান।
এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে বালু উত্তোলন বন্ধ করে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে নদীভাঙন রোধ করা হোক। অন্যথায় আসন্ন বর্ষায় বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তারা।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









