যশোর কোতোয়ালি থানা পুলিশের বিরুদ্ধে গাড়ি অবৈধভাবে আটকে রাখার যে অভিযোগ হীরা খাতুন তুলেছেন, তাকে ‘সম্পূর্ণ অযৌক্তিক, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন’ বলে দাবি করেছে যশোর জেলা পুলিশ। মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে যশোর পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
যশোর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ মিরাজুল ইসলাম জানান, গত ২৭ মার্চ রাতে কোতোয়ালি থানা সংলগ্ন রিচম্যান শোরুমের সামনে থেকে একটি পরিত্যক্ত টয়োটা সিএইচআর হাইব্রিড গাড়ি (ঢাকা মেট্রো-২১-৪১১৩) উদ্ধার করে পুলিশ। স্থানীয়দের তথ্যের ভিত্তিতে গাড়িটি বেওয়ারিশ হিসেবে জব্দ করে থানায় আনা হয়। পরবর্তীতে মাগুরার হীরা খাতুন গাড়ির মালিকানা দাবি করলে তাকে আদালতের মাধ্যমে বৈধ কাগজপত্র দেখিয়ে গাড়িটি ছাড়িয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত তিনি কোনো বৈধ কাগজপত্র বা আদালতের আদেশ জমা দেননি।
পুলিশের দাবি, হীরা খাতুন গত ১১ মে ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন করে পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়েছেন। প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও জানানো হয়, হীরা খাতুন বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগের মাগুরা জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন এবং তার প্রয়াত স্বামী আলী হাসানের বিরুদ্ধে একাধিক ডাকাতি মামলা তদন্তাধীন ছিল। ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) রাজিবুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) সাখাওয়াত হোসেন এবং কোতোয়ালি থানার ওসি মাসুম খান উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে গত সোমবার (১১ মে) ঢাকার ক্র্যাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করে হীরা খাতুন দাবি করেন, যশোরের একটি স্বর্ণপাচার চক্রের মানসিক নির্যাতনে তার স্বামী মারা যান। পরবর্তীতে তার কলেজপড়ুয়া ছেলেকে প্রাইভেটকারসহ অপহরণ করা হয়। মাগুরা যুবদলের সভাপতির সহায়তায় ছেলে ও গাড়ি উদ্ধার করে থানায় জমা দেওয়া হলেও পুলিশ তা ফেরত দিচ্ছে না এবং তার ওপর অন্যায় করা হচ্ছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









