মুম্বাইয়ে ট্রেনের সংরক্ষিত আসন নিয়ে বচসার জেরে রেলওয়ে প্রোটেকশন ফোর্সের (আরপিএফ) সদস্যদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে মডেল-অভিনেত্রী অন্তরা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ৩১ বছর বয়সি এই অভিনেত্রীকে গ্রেপ্তার করে রেল পুলিশ। পরে নোটিশ দিয়ে তাকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। তবে ঘটনার তদন্ত চলছে।
রবিবার (১৬ আগস্ট) রাতে অরাবল্লী এক্সপ্রেসের একটি সংরক্ষিত এসি কামরায় ওঠার পর আরপিএফ কর্মীদের সঙ্গে অন্তরার বচসা হয় বলে অভিযোগ।
পুলিশ জানিয়েছে, একটি শুটিংয়ের কাজে সুরাট যাচ্ছিলেন তিনি। তার কাছে ছিল স্লিপার শ্রেণির টিকিট। অভিযোগ, ওই টিকিট থাকা সত্ত্বেও তিনি ট্রেনটির সংরক্ষিত এসি কোচে উঠে একটি আসনে বসেন।
ঘটনাটি রাত সাড়ে ৯টা থেকে রাত ১০টা ৫০ মিনিটের মধ্যে বোরিভলি ও দহানুর মধ্যবর্তী এলাকায় ঘটে। এফআইআর অনুযায়ী, এক যাত্রী অন্তরাকে সংরক্ষিত আসন ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করেন। তিনি আসন ছাড়তে অস্বীকার করলে বিষয়টি রেল কর্তৃপক্ষ ও আরপিএফকে জানানো হয়।
এরপর আরপিএফের অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব-ইন্সপেক্টর যামিনীকান্ত মিশ্র ও কনস্টেবল রাজেশ কুমার ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। অভিযোগ, তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন অন্তরা। একপর্যায়ে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
পুলিশের দাবি, ওই সময় অন্তরা নিজের পোশাক খুলে ফেলেন এবং হাতে রেজর ব্লেড নিয়ে আরপিএফ সদস্যদের ভয় দেখাতে থাকেন। অভিযোগ, ব্লেড দিয়ে এক কর্মকর্তাকে আঘাতও করেন তিনি। ঘটনায় অন্তরাও আহত হন বলে জানা গেছে। যামিনীকান্ত মিশ্রের অভিযোগ, অন্তরা তার পোশাক ও মোবাইল ফোনও ক্ষতিগ্রস্ত করেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কায় কামরার দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়। পুলিশ জানিয়েছে, তখন কামরা থেকে বের হওয়ার জন্য জানালার কাচ ভাঙারও চেষ্টা করেন অন্তরা।
পরে দহানু স্টেশনে তাকে ট্রেন থেকে নামিয়ে সরকারি রেল পুলিশ বা জিআরপির হাতে তুলে দেওয়া হয়। প্রায় এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা এই ঘটনায় ট্রেনের অন্য যাত্রীদের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, এসি কামরার টিকিট না পাওয়ায় অন্তরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, তাকে পরিবারের সদস্য বা আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ দেওয়া হলেও তিনি তাতে রাজি হননি। বরং তাকে গ্রেপ্তার করার দাবি জানান বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
এ ঘটনায় অন্তরার বিরুদ্ধে জননিরাপত্তা বিপন্ন করা, সরকারি কর্মীকে গুরুতরভাবে আহত করা, হামলা এবং ইচ্ছাকৃতভাবে অপমান করার মতো অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। এফআইআর দায়েরের পর তিনি কিছুটা শান্ত হন বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরে তাকে নোটিশ দিয়ে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়। মামলাটির তদন্ত বর্তমানে চলমান।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









