চিলির অভিনেত্রী মারিয়ানা দি জিরোলামোর হলিউডযাত্রা শুরু হয়েছে নতুন সম্ভাবনা নিয়ে। পরিচালক মার্টিন ম্যাকডোনার ‘ওয়াইল্ড হর্স নাইন’ ছবিতে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো ইংরেজি ভাষার আমেরিকান চলচ্চিত্রে কাজ করেছেন তিনি। মুক্তির আগেই ছবিটি অস্কারের সম্ভাব্য প্রতিযোগী হিসেবে আলোচনায় আসায় মারিয়ানার ক্যারিয়ারেও যুক্ত হয়েছে নতুন মাত্রা।
ছবিতে কাজ করতে গিয়ে অদ্ভুত এক অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছেন ৩৫ বছর বয়সী এই অভিনেত্রী। মাতৃভাষা স্প্যানিশ হলেও একসময় তিনি স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন ইংরেজিতে। ছবির সংলাপ আয়ত্ত করতে দীর্ঘ প্রস্তুতি নিতে হয়েছিল তাকে। প্রথমে অডিশনের জন্য নিজের অভিনয়ের অংশগুলো প্রস্তুত করেন। পরে নির্বাচিত হওয়ার পর অভিনয় প্রশিক্ষক ও পরিচালক ম্যাকডোনার সঙ্গে চিত্রনাট্য নিয়ে কাজ করেন। সংলাপের ছন্দ, বিরামচিহ্ন এবং শব্দের ব্যবহার—সবকিছুই নিখুঁতভাবে আয়ত্ত করার চেষ্টা করেন তিনি।
মারিয়ানা বলেন, আমেরিকান ছবিতে অভিনয় করা তার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন। এখন এমন কিছু কথা ইংরেজিতে বলতে তার সহজ লাগে, যা আগে কঠিন মনে হতো। ইংরেজিতে স্বপ্ন দেখতে শুরু করাকে তিনি নিজের প্রস্তুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে দেখেছেন।

সান্তিয়াগোতে শিল্প-সংস্কৃতিমনস্ক পরিবারে বেড়ে উঠেছেন মারিয়ানা। তার মা-বাবা দুজনই শিল্পী। খালা ক্লাউদিয়া দি জিরোলামো চিলির অন্যতম পরিচিত অভিনেত্রী। অভিনয় যেন তার রক্তেই মিশে আছে। তবে শুরুতে পরিবারের পথ অনুসরণ করতে চাননি তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ে ধাত্রীবিদ্যা নিয়ে পড়াশোনা শুরু করলেও ঐচ্ছিক একটি নাট্যকলা বিষয় তার সিদ্ধান্ত বদলে দেয়।
অভিনয়ের প্রতি ভালোবাসা প্রসঙ্গে মারিয়ানা বলেন, সংলাপ মুখস্থ করা থেকে শুরু করে পোশাক নিয়ে কাজ করা এবং দর্শকের সামনে দাঁড়িয়ে অভিনয়ের অনুভূতি—সবকিছুই তাকে আকৃষ্ট করেছিল। এরপর তিনি চিলির অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পন্টিফিক্যাল ক্যাথলিক ইউনিভার্সিটি অব চিলির নাট্যকলা বিভাগে ভর্তি হন। কয়েক বছর মঞ্চনাটক ও স্থানীয় টেলিভিশনে কাজ করার পর পাবলো লারাইনের এমা ছবিতে অভিনয়ের সুযোগ পান। গায়েল গার্সিয়া বার্নালের বিপরীতে অভিনীত ছবিটি তার ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ মোড় হয়ে ওঠে।
মারিয়ানা জানান, এমা ছবির মাধ্যমেই চলচ্চিত্রের প্রতি তার গভীর ভালোবাসা তৈরি হয়। পরিচালক মার্টিন ম্যাকডোনা ছবিটি দেখেছিলেন এবং পাবলো লারাইনের সঙ্গে তার অভিনয় নিয়ে কথা বলেছিলেন। পরবর্তী সময়ে ওয়াইল্ড হর্স নাইন ছবিতে সুযোগ পাওয়ার পেছনেও এই চলচ্চিত্রের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।
ছবিটির গল্পের পটভূমি চিলির প্রত্যন্ত দ্বীপ রাপা নুই। বহু বছর আগে দ্বীপটি ভ্রমণ করে সেখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়েছিলেন ম্যাকডোনা। পরে ১৯৭৩ সালের অভ্যুত্থানের প্রাক্কালে দ্বীপটিতে পাঠানো দুই মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তাকে ঘিরে গল্প তৈরি করেন তিনি। জন মালকোভিচ ও স্যাম রকওয়েল অভিনয় করেছেন ওই দুই কর্মকর্তার ভূমিকায়। আর মারিয়ানা অভিনয় করেছেন বামপন্থী এক শিক্ষার্থীর চরিত্রে, যে মালকোভিচের অভিনীত চরিত্রের মনোযোগ আকর্ষণ করে।

ছবির শুটিংয়ের আগে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে নিউইয়র্কে যান মারিয়ানা। সেখানে পাবলিক থিয়েটারে এক সপ্তাহ ধরে চিত্রনাট্য পাঠের আয়োজন করেছিলেন পরিচালক। সহশিল্পীদের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতাও তার কাছে ছিল বিশেষ। স্যাম রকওয়েলের অভিনয়ের প্রস্তুতি, পার্কার পোসির সঙ্গে পরিচয় এবং জন মালকোভিচের চিলির সংস্কৃতি ও চলচ্চিত্র সম্পর্কে জানাশোনা তাকে মুগ্ধ করে।
মারিয়ানা জানান, মালকোভিচের পোশাকের রুচিও তার নজর কেড়েছিল। নিজের একটি জ্যাকেট পছন্দ করায় অভিনেতা তাকে অনুমোদন দিয়েছিলেন—বিষয়টি তার কাছে বিশেষ মুহূর্ত হয়ে আছে।
৬ নভেম্বর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা ‘ওয়াইল্ড হর্স নাইন’ চলচ্চিত্রটির। এরই মধ্যে ভেনিস, টেলুরাইড ও টরন্টো চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয়েছে ছবিটি। ভেনিসে ছবির প্রদর্শনী চলাকালে দর্শকেরা মাঝপথেই করতালি দিতে শুরু করেছিলেন বলে জানান মারিয়ানা। তার ভাষায়, অভিজ্ঞতাটি ছিল অবিশ্বাস্য।
ছবিটি মুক্তির সময় যত এগিয়ে আসছে, ততই নতুন কাজের প্রস্তাব পাচ্ছেন তিনি। তবে পরবর্তী কাজ বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে চান এই অভিনেত্রী।
মারিয়ানা বলেন, মার্টিন ম্যাকডোনার মতো পরিচালকের সঙ্গে কাজ করার স্বপ্নও কখনো দেখেননি তিনি। তাই এই অভিজ্ঞতাকে নিজের জীবনের সুন্দর এক বিস্ময় হিসেবেই দেখছেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









