পাকিস্তানের বালুচিস্তান প্রদেশের ১২টি পৃথক স্থানে ‘সন্ত্রাসীদের’ হামলায় অন্তত ১০ জন পুলিশ সদস্য ও নিরাপত্তাকর্মীসহ দুই পক্ষে মোট ৬৮ জন নিহত হয়েছে। পাকিস্তান এই হামলাকে ভারত সমর্থিত হামলা বলে দাবি করেছে।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী সূত্রের মাধ্যমে এই তথ্য জানা গেছে।
সূত্রগুলো জানিয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনী এখনো বিভিন্ন স্থানে সন্দেহভাজন হামলাকারীদের ধরতে চিরুনি অভিযান চালাচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে অভিযানে সন্ত্রাসীদের মৃত্যু ও ক্ষয়ক্ষতির সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।
পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী সূত্র জানায়, গত রাতে ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্তান’ পরিচালিত এসব হামলা নিরাপত্তা বাহিনী ও অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার (এলইএ) সময়োপযোগী পদক্ষেপের কারণে ব্যর্থ হয়েছে।
হামলায় গোয়াদরে খুজদার এলাকার এক বালুচ শ্রমিক পরিবারের পাঁচ সদস্য নিহত হয়েছেন। এতে একজন নারী ও তিন শিশু রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সন্ত্রাসী হামলা নস্যাৎ করে দেওয়ার জন্য নিরাপত্তা বাহিনীর প্রশংসা করেছেন।
তিনি নিহত ১০ পুলিশ সদস্য ও নিরাপত্তাকর্মীর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেছেন, ‘পুরো জাতি তাদের জন্য গর্বিত। সন্ত্রাসবাদ নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এই লড়াই চলবে।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি এই ভয়াবহ হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘সন্ত্রাসীদের অশুভ উদ্দেশ্য নস্যাৎকারী সাহসী সন্তানদের আমি স্যালুট জানাই। যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন, তারা আমাদের জাতীয় বীর এবং তাদের মহান আত্মত্যাগ চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।’
বেলুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী সরফরাজ বুগতি জানিয়েছেন, পুলিশ ও এফসির যৌথ প্রচেষ্টায় এই হামলাগুলো ব্যর্থ হয়েছে। তিনি কোয়েটায় একটি বিস্ফোরণস্থল পরিদর্শন করেন এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন।
আগের দিনও বেলুচিস্তানের হারনাই ও পাঞ্জগুর এলাকায় পৃথক দুই অভিযানে ৪১ জন বিচ্ছিন্নতাবাদী নিহত হয়েছিলেন। পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, ২৯ জানুয়ারির সেই অভিযানে ‘সন্ত্রাসীদের’ কাছ থেকে অস্ত্র ও গোলাবারুদ ছাড়াও গত ডিসেম্বরে ব্যাংক ডাকাতির লুণ্ঠিত অর্থ উদ্ধার করা হয়েছে।
২০২১ সালে আফগানিস্তানে তালেবান ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে পাকিস্তানে আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসী তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









