তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতা দল ছাড়লেও লড়াই থেকে সরে না দাড়ানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
বুধবার (১৫ জুলাই) ফেসবুকে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, ১৯৯৭-৯৮ সালে যেভাবে শূন্য থেকে দল গড়ে লড়াই করেছিলেন, ২০২৬ সালেও প্রয়োজনে একইভাবে নতুন করে শুরু করার সক্ষমতা তার রয়েছে।
বার্তায় বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দেওয়া নেতা-কর্মীদের আবারও ‘বেইমান’ বলে উল্লেখ করেন মমতা।
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ১৯৯৮ সালের ১ জানুয়ারি তৃণমূল কংগ্রেস নির্বাচনী প্রতীক পেয়েছিল এবং মাত্র এক মাস ২২ দিনের মধ্যে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল। সে সময় দলটির আটজন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯৯ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে দাড়ায় নয়জনে। ২০০৪ সালে কঠিন সময় পার করলেও লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমানে রাজ্যসভায় ১০ জন এবং লোকসভায় আটজন এমপি রয়েছেন।
এরপরই তিনি বলেন, ‘‘যারা যাওয়ার, চলে যাক। ১৯৯৭-৯৮ সালে যদি লড়াই করতে পারি, তাহলে ২০২৬ সালেও শূন্য থেকে আবার শুরু করার ক্ষমতা রাখি।’’
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বিদ্রোহী একটি অংশ ‘আসল তৃণমূল’ দাবি করে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হওয়ার পর থেকেই দলটিতে ভাঙনের ঘটনা সামনে আসে। ফিরহাদ হাকিম ও চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের মতো কয়েকজন শীর্ষ নেতা শিবির বদল করেছেন। সর্বশেষ বুধবার মদন মিত্রও দল ছাড়ার ঘোষণা দেন।
মমতা অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার ভয় দেখিয়ে এবং নেতাদের পরিবারের সদস্যদের নামে নোটিশ পাঠিয়ে দলত্যাগে বাধ্য করা হচ্ছে। তার দাবি, মদন মিত্র আগেই জানিয়েছিলেন যে তার পরিবারের সদস্যদের কাছেও ইডির নোটিশ পৌঁছেছে। তখনই বিষয়টি তিনি বুঝতে পেরে তাকে দলীয় দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়েছিলেন।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দলত্যাগের অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন মমতা। তিনি বলেন, অভিষেক কেবল একটি ‘বাহানা’। তার ভুলের বিষয়টি মিটে গেছে এবং তিনি আগামী দিনেও দলের হয়ে লড়াই চালিয়ে যাবেন।
এ সময় পশ্চিমবঙ্গ পুলিশেরও সমালোচনা করেন তৃণমূল নেত্রী। তার অভিযোগ, আইসি ও এসপিরা নিরপেক্ষ ভূমিকা না রেখে বিজেপির ব্লক ও জেলা সভাপতির মতো আচরণ করছেন এবং তৃণমূলের বিধায়ক ও কর্মীদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন।
মমতা আরও বলেন, আপস বা সমঝোতার পথ বেছে নিলে এসব পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতো না। তবে তিনি আদর্শ ও মূল্যবোধের সঙ্গে আপস করবেন না। প্রয়োজনে ১৯৮৪ সালের মতো নিজের অফিস থেকেই আবারও দল গড়ে তোলার কথাও জানান তিনি।
এ দিকে দলীয় বিভক্তির কারণে এবার একুশে জুলাই শহীদ দিবস আলাদাভাবে পালন করবে তৃণমূলের দুই পক্ষ। বিদ্রোহী গোষ্ঠী ধর্মতলায় কর্মসূচি পালন করবে, আর আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন অংশ বিড়লা প্ল্যানেটোরিয়ামের সামনে সমাবেশ করবে। তিনি বলেন, ডেকোরেটর বা মাইক ব্যবহারে বাধা দেওয়া হলেও প্রয়োজনে খালি গলাতেই বিকেল ৩টা পর্যন্ত সভা করবেন।
সূত্র: কলকাতা প্রতিনিধি


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









