নিট (NEET) প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে ভারতে চলমান ছাত্র আন্দোলন নিয়ে এবার মুখ খুলেছেন আন্তর্জাতিক বুকারজয়ী ভারতীয় লেখক গীতাঞ্জলি শ্রী। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের বলপ্রয়োগের সমালোচনা করে তিনি বলেছেন, রাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তিরা—মন্ত্রী, আমলা কিংবা পুলিশ—কেউই দেবতা নন; তারা জনগণের প্রতিনিধি ও জনসেবক। একই সঙ্গে গণতন্ত্রের চর্চার কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়ার জন্য তরুণদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন এই খ্যাতিমান সাহিত্যিক।
২০২২ সালে আন্তর্জাতিক বুকার পুরস্কারজয়ী গীতাঞ্জলি শ্রী ‘দ্য ওয়্যার’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, “দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও তরুণদের ওপর পুলিশের কঠোর অবস্থান উদ্বেগজনক।”
২০ জুলাই ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-এর ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচির ডাকের পর হাজারো শিক্ষার্থী ও তরুণ যন্তর মন্তরে জড়ো হন। কথিত নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদ এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে শুরু হওয়া এই আন্দোলন পরে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে এবং তরুণদের ক্ষোভের প্রতীক হয়ে ওঠে।
গীতাঞ্জলি শ্রী বলেন, “তরুণরা কথা বলছে। তারা ভারতের নাগরিক এবং এ দেশই তাদের ঘর। এটি তাদের নিজের বাড়ি।”
তিনি আরো বলেন, “নিজের ঘরে যদি কোথাও ফাটল বা চুইয়ে পানি পড়তে দেখা যায়, তাহলে কি আমরা উদ্বিগ্ন হই না? ঘরটি ভেঙে পড়বে কি না, সে চিন্তা কি করি না? শিক্ষার্থীরা সেই ফাটল মেরামত এবং সমস্যার সমাধান চাইছে। তারা কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানাচ্ছে, যেন তাদের উদ্বেগ দূর করা হয়, ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করা হয় এবং তাদের দেশ ও মাতৃভূমি রক্ষা করা হয়।”
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহসহ সরকারের শীর্ষ নেতারা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের আচরণ নিয়ে এখনো প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি। বিভিন্ন প্রতিবেদনে আন্দোলনকারীদের উপর আঘাত, লাঠিচার্জে আহত হওয়া এবং পুলিশের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগের কথাও উঠে এসেছে।
এ প্রসঙ্গে গীতাঞ্জলি শ্রী বলেন, “উপরে যারা আছেন—মন্ত্রী, আমলা কিংবা পুলিশ—তারা জনগণের প্রতিনিধি এবং জনসেবক। তারা কোনো দেবতা নন।”
গণতন্ত্রের গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দেওয়ার জন্য তরুণদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, “গণতন্ত্রের কথা আমাদের মনে করিয়ে দেওয়ার জন্য সব তরুণকে ধন্যবাদ। তোমাদের প্রতি আমার সালাম। একই সঙ্গে ক্ষমতাসীনদের প্রতি আহ্বান, তারা যেন প্রজ্ঞা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে নিজেদের কর্তব্য পালন করেন।”
সামাজিক ও রাজনৈতিক নানা ইস্যুতে বরাবরই সরব গীতাঞ্জলি শ্রী। তাঁর উপন্যাস ‘রেত সমাধি’-এর ইংরেজি অনুবাদ ‘Tomb of Sand’ ২০২২ সালে আন্তর্জাতিক বুকার পুরস্কার লাভ করে। এটিই ছিল হিন্দি ভাষার এবং কোনো ভারতীয় ভাষায় লেখা সাহিত্যকর্মের প্রথম আন্তর্জাতিক বুকার জয়।
তবে একই বছর উত্তর প্রদেশের এক বাসিন্দা তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন, ‘রেত সমাধি’ বইটি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অনুভূতিতে আঘাত করেছে। এ অভিযোগের পর আগ্রায় তাকে সম্মাননা জানানোর একটি অনুষ্ঠান বাতিল করা হলে বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে সমালোচনার সৃষ্টি হয়।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









