নেপালে আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৬৯ জনে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির পুলিশ।
শত শত প্রাণহানি ঘটানো এই বিপর্যয়ে বেঁচে যাওয়া মানুষদের খোঁজে উদ্ধারকারীরা যখন তল্লাশি চালাচ্ছেন, ঠিক তখনই দেশটির উত্তরাঞ্চলে নতুন করে আরও বন্যার শঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।
নেপাল-তিব্বত সীমান্তের ভোটে কোশি নদীতে গতিপথ বাধাগ্রস্ত হয়ে একটি হ্রদ তৈরি হওয়ায় ভাটির অঞ্চলে আবার প্রবল বন্যার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, এই তথ্য নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে চীনের পক্ষ থেকে পাওয়া গেছে।
বুধবার তিব্বত সীমান্ত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং ভূমিধসের কারণে ভোটে কোশি নদীর উজানে হ্রদ তৈরি হয়। স্যাটেলাইট ছবি এবং প্রাথমিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই জমা হওয়া পানির হ্রদ আকারে ক্রমাগত বড় হচ্ছে।
হ্রদটি যে কোনও মুহূর্তে সম্পূর্ণ ভেঙে গিয়ে নদীর নিম্নাঞ্চলে আবার তীব্র হড়পা বান নেমে আসতে পারে। এই ঝুঁকির মুখে ভাটি অঞ্চলের বাসিন্দাদেরকে নদীর তীর ও অন্যান্য বিপজ্জনক এলাকা থেকে সরে যেতে বলা হয়েছে।
নেপালি পত্রিকা নেপাল নিউজ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া ৪৬৯টি মরদেহের জেলাভিত্তিক তথ্য দিয়েছে নেপাল পুলিশ।
সবচেয়ে বেশি ১৭৮ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে চিতওয়ান জেলা থেকে। এছাড়া নবলপরাসী বরদাঘাট সুস্তার পূর্বে ১১০ জন, গোর্খায় ৪৪ জন, নুয়াকোটে ৩৭ জন, ধাদিংয়ে ৩৩ জন, তানাহুনে ২৮ জন, নবলপরাসী বরদাঘাট সুস্তার পশ্চিমে ২৭ জন এবং রসুয়া জেলায় ১২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
নেপাল পুলিশ জানিয়েছে, এই দুর্যোগের পর থেকে তাদের ২৮ জন সদস্য এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।
ত্রিশূলির রাস্তাঘাট কাদার পুরু আস্তরণে ঢেকে গেছে, যার নিচে অনেক যানবাহন অর্ধেকটা আটকে আছে। নদীর তীরবর্তী মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে নতুন করে বন্যার ঝুঁকি থাকায় প্রবেশমুখে পুলিশের ব্যারিকেড দেওয়া হয়েছে।
বিবিসি লিখেছে, ২০১৫ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর এই বন্যাকে নেপালের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিপর্যয় হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে হতাহতের সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে।
পাহাড়ে এখনও হেলিকপ্টার নিয়ে নিখোঁজদের সন্ধান ও ত্রাণসামগ্রী পৌঁছানোর কাজ চলছে।
ইতোমধ্যে শত শত মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে। ত্রিশূলির একটি সুড়ঙ্গে আটকে পড়া ৪৫০ জনের অধিকাংশকেই উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত থাকায় আপনজনদের খোঁজে ব্যাকুল হয়ে অপেক্ষায় থাকা পরিবারগুলোর মনে আশার আলো টিকে আছে এখনও।
এদিকে ভারতে সরকারি ছুটি থাকা সত্ত্বেও পুরো দেশজুড়ে শোক ও উদ্বেগের ছায়া নেমে এসেছে। নেপালে তীর্থযাত্রায় যাওয়া শত শত ভারতীয় নাগরিক এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
উদ্বিগ্ন পরিবারগুলো তাদের স্বজনদের খবরের জন্য ব্যাকুল হয়ে অপেক্ষা করছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









