নেপালে হিমবাহ ধসে তৈরি হওয়া প্রলয়ংকরী আকস্মিক বন্যায় প্রাণহানি বেড়ে ৪৭২ জনে দাঁড়িয়েছে, যার মধ্যে অনেক বিদেশি পর্যটকও রয়েছেন। দুর্যোগের দুদিন পার হলেও দুর্গম ও কাদামাটিতে ঢাকা এলাকাগুলোতে সেনাসদস্যদের সঙ্গে নিয়ে উদ্ধার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে উদ্ধারকারী দলগুলো। তবে সময় গড়াচ্ছের সঙ্গে সঙ্গে স্তূপের নিচ থেকে কাউকে জীবিত উদ্ধারের আশা অনেকটাই ক্ষীণ হয়ে আসছে। এরই মধ্যে উজানে জমে থাকা পানিতে নতুন একটি হ্রদ তৈরি হওয়ায় তা ভেঙে ফের বড় ধরনের দ্বিতীয় দফা বিপর্যয়ের চরম ঝুঁকি তৈরি হয়েছে দুর্গত অঞ্চলগুলোতে।
রয়টার্স জানিয়েছে, জীবিতদের খুঁজে পাওয়ার আশা ফিকে হয়ে আসছে, নতুন করে বড় ধরনের বন্যার ঝুঁকি কমাতে কাজ করে যাচ্ছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
বুধবার সকালে নেপাল ও প্রতিবেশী তিব্বত সীমান্তের কাছে একটি হিমবাহ ধসে হিমালয়ের পাহাড়ি নদী দিয়ে পাথর, বরফ, কাদা এবং ধ্বংসস্তূপের বিশাল স্রোত আছড়ে পড়ে।
কাঠমান্ডু পোস্টের তথ্য অনুযায়ী, এই বন্যায় এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৬৯ জনে দাঁড়িয়েছে।
বন্যাটি কাঠমান্ডুর সঙ্গে তিব্বতের লাসার সংযোগকারী রুটের গ্রাম ও উপত্যকাগুলোকে তছনছ করে দিয়েছে। ধ্বংস হয়ে গেছে বিদ্যুৎকেন্দ্র, রাস্তাঘাট এবং সেতু।
ট্রেকার এবং তীর্থযাত্রীদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় এই রুটে এখনো হাজার খানেক মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।
কাঠমান্ডু পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভোটে কোশি ও ত্রিশূলী নদী এবং এর ভাটি অঞ্চলে জীবিত ও মৃতদের সন্ধানে তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে।
নেপাল ট্যুরিজম বোর্ড জানিয়েছে, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে ১২৭ জন নেপালি নাগরিকসহ মোট ৬৬৭ জন পর্যটক ও দর্শনার্থী এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।
বিদেশি নিখোঁজ নাগরিকদের বিষয়ে বোর্ড জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ৩১ জন বিদেশি নাগরিককে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন ১ জন ভারতীয়, ৪ জন দক্ষিণ কোরীয়, ২ জন মার্কিন, ২ জন রুশ, ২ জন ইতালীয়, ১ জন বুলগেরীয় এবং ১ জন সুইস নাগরিক। উদ্ধার হওয়া বাকি ১৮ জনের জাতীয়তা এখনও নিশ্চিত করা যায়নি।
নেপাল পুলিশের বরাতে নেপাল নিউজ উদ্ধার হওয়া ৪৬৯টি মরদেহের জেলাভিত্তিক একটি পরিসংখ্যান দিয়েছে।
সবচেয়ে বেশি ১৭৮ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে চিতওয়ান জেলা থেকে। এছাড়া নবলপরাসী বরদাঘাট সুস্তার পূর্বে ১১০ জন, গোর্খায় ৪৪ জন, নুয়াকোটে ৩৭ জন, ধাদিংয়ে ৩৩ জন, তানাহুনে ২৮ জন, নবলপরাসী বরদাঘাট সুস্তার পশ্চিমে ২৭ জন এবং রসুয়া জেলা থেকে ১২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
নেপাল সেনাবাহিনী, পুলিশ এবং সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী একযোগে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে। দুর্গম এলাকায় পৌঁছাতে এবং আটকা পড়াদের উদ্ধারে হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হচ্ছে।
বন্যার পানির সঙ্গে ভেসে আসা কাদা- পাথর-জঞ্জালের তলায় চাপা পড়েছেন নিখোঁজরা। নেপালের সামরিক বাহিনী হেলিকপ্টার ব্যবহারের মাধ্যমে জীবিতদের সন্ধান করেছে এবং শহর ও উপত্যকায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া হাজার হাজার মানুষের জন্য জরুরি ত্রাণসামগ্রী ফেলেছে।
আর জরুরি পরিষেবা কর্মীরা নিখোঁজদের সন্ধান করছে, উদ্ধার মরদেহগুলোর সৎকারের ব্যবস্থাও করছে।
বৃহস্পতিবার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত রাসুয়া শহর থেকে উদ্ধার হওয়া সর্বশেষ ব্যক্তিদের মধ্যে দিবগা তামাং ছিলেন অন্যতম। তাকে আরও তিনজনের সাথে আকাশপথে নুয়াকোটের একটি সেনা ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়।
তামাং বলেন, “আমার পরিবার, আপনজন বলতে আর কেউ নেই। আমার জন্য অপেক্ষা করার আর কেউ নেই। সব কিছু শেষ। সবাই চলে গেছে।”


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









