সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার বিছনাকান্দি ইউনিয়নে হাদারপার-দমদমা সড়কের মাঝখানে ৯০টি গাছ রেখেই চলছে আরসিসি ঢালাইয়ের কাজ। নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হলেও গাছ অপসারণ না করায় যেমন কাজ শেষ করা যায়নি, তেমনি সড়কের স্থায়িত্ব ও যাতায়াত নিরাপত্তা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, হাদারপার-ভাটরাই-ভোলাগঞ্জ জিসি সড়কের হাদারপার থেকে দমদমা পর্যন্ত সাড়ে ৬ কিলোমিটার অংশে আরসিসি ঢালাই ও ৭টি কালভার্ট নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২৬ কোটি ৬৫ লাখ ৯৪ হাজার টাকা ব্যয়ে ঢাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স কামরুল অ্যান্ড ব্রাদার্স’ এই কাজ পায়। ২০২৪ সালের ১৬ ডিসেম্বর কাজ শুরু হয়ে ২০২৬ সালের ২৮ জুন শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বগাইয়া থেকে দমদমা পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন স্থানে থাকা ৯০টি গাছের কারণে কাজ পুরোপুরি শেষ করা সম্ভব হয়নি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কের বগাইয়া থেকে দমদমা অংশের মাঝ বরাবর সারিবদ্ধ গাছ দাঁড়িয়ে রয়েছে। গাছের গোড়া ঘেঁষেই সিসি ও আরসিসি ঢালাই দেওয়া হয়েছে। কোথাও কোথাও গাছ বাঁচাতে গিয়ে আঁকাবাঁকা করে ঢালাই দেওয়ায় সড়কের স্বাভাবিক প্রস্থ ও আকৃতি নষ্ট হয়েছে।
এমনকি অনেক জায়গায় গাছের শিকড় কেটে আরসিসির গার্ডওয়াল দেওয়া হয়েছে, যা পরিবেশের জন্য যেমন ক্ষতিকর, তেমনি সড়কের স্থায়িত্বকেও ঝুঁকিতে ফেলেছে। মাঝসড়কে গাছ ও ত্রুটিপূর্ণ ঢালাইয়ের কারণে এই রুটে যানবাহন চলাচল চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে এবং প্রতিদিন যাত্রীদের পোহাতে হচ্ছে চরম ভোগান্তি।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, সড়কের মধ্যে গাছ রেখেই ঢালাই করা হয়েছে। ভবিষ্যতে গাছের শিকড়ের কারণে সড়কে ফাটল ও ভাঙন দেখা দিয়ে তা দ্রুত নষ্ট হতে পারে। তাই গাছগুলো দ্রুত অপসারণ করে সড়কটি যথাযথভাবে নির্মাণের দাবি জানাচ্ছি।ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার জুবায়ের আহমদ বলেন, কাজের শুরু থেকেই এলজিইডি কর্তৃপক্ষকে গাছগুলো কাটার অনুরোধ জানিয়ে আসছি। কিন্তু কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় বাধ্য হয়ে গাছের অংশ রেখেই কাজ করতে হচ্ছে। এতে আমাদের অনেক ক্ষতি ও ব্যয় হয়েছে। গাছ কাটা হলে বাকি অংশের ঢালাই শেষ করা হবে।
উপজেলা প্রকৌশলী, এলজিইডি হাসিব আহামেদ বলেন, সড়ক উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করা গাছগুলোর বিষয়ে শুরুতেই বন বিভাগকে জানানো হয়েছে। সারী রেঞ্জ কর্মকর্তা এক মাস আগে গাছগুলো টেন্ডার হওয়ার কথা বললেও এখনো কাটা হয়নি। এরপর থেকে তাঁকে ফোন দিলেও তিনি আর রিসিভ করছেন না।
বন বিভাগের সারী রেঞ্জ কর্মকর্তা শাহ আলম ইসলাম বলেন, সড়কের উন্নয়ন কাজে বাধা দেওয়া ৯০টি গাছ তালিকাভুক্ত করে টেন্ডারের মাধ্যমে টাঙ্গাইলের এক মহলদারকে দেওয়া হয়েছে। ওই মহলদার আগামী সপ্তাহের মধ্যেই গাছ কাটা শুরু করবেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার রতন কুমার অধিকারী বলেন, সড়কের গাছগুলো দ্রুত অপসারণের জন্য বন বিভাগ কর্তৃপক্ষকে বলা হয়েছে। তাঁরা খুব শিগগিরই এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









