হিমালয় অঞ্চলে ভয়াবহ ভূমিধসে অন্তত ৯৩ হাজার মানুষ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাদের জরুরি মানবিক সহায়তা প্রয়োজন বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিগুলোর ফেডারেশন (আইএফআরসি)।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) জেনেভায় এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে নেপালে আইএফআরসির প্রতিনিধি দলের প্রধান ডেভিড ফিশার বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে নতুন করে বন্যার আশঙ্কাও রয়েছে।
ফিশার বলেন, ‘আমরা মনে করছি, অন্তত ৯৩ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং তাদের বড় ধরনের সহায়তা প্রয়োজন।’
ভূমিধসের কারণে তৈরি হওয়া একটি হ্রদের পানি উপচে পড়ার পর ত্রাণ কার্যক্রম সাময়িকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। ফিশার জানান, হ্রদের বাঁধ ভেঙে পানি বেরিয়ে যাওয়ায় রেড ক্রসের ত্রাণবাহী ট্রাকগুলো আটকে পড়ে। এতে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে সাময়িক বিঘ্ন ঘটে।

জাতিসংঘের দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসবিষয়ক দপ্তরের প্রধান কমল কিশোর পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক করে বলেছেন, ভূমিধসের পর আরও নানা ধরনের বিপদ তৈরি হতে পারে। তার মতে, দুর্যোগ এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি; কিছু এলাকায় পরিস্থিতি এখনো পরিবর্তিত হচ্ছে।
এদিকে স্বাস্থ্যসেবাতেও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মুখপাত্র তারিক ইয়াসারেভিচ জানান, ভূমিধসে ছয়টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং আটজন স্বাস্থ্যকর্মী নিখোঁজ রয়েছেন।
তিনি বলেন, বড় দুর্যোগের পর মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নেওয়ায় অনেক এলাকায় অতিরিক্ত ভিড় তৈরি হতে পারে। পানি, পয়োনিষ্কাশন ও স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হলে সংক্রামক রোগের ঝুঁকিও বাড়ে। বিশেষ করে ডায়রিয়া ও শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
রেড ক্রস জানিয়েছে, দুর্গত মানুষের খাদ্য, পানি, চিকিৎসা ও অন্যান্য জরুরি সহায়তা প্রয়োজন। তবে পাহাড়ি এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ত্রাণ পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
কর্মকর্তারা বলছেন, উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমের পাশাপাশি নতুন বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকির দিকেও নজর রাখতে হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









