কারও হাতে খেলনা, কারও চোখে নতুন কিছু পাওয়ার উচ্ছ্বাস। কেউ ব্যস্ত খেলাধুলায়, কেউ আবার বন্ধুদের সঙ্গে গল্পে। অভাব আর সংকটের বাস্তবতা ভুলে একটি দিন যেন তারা ফিরে পেয়েছিল নির্মল শৈশব। অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মুখে হাসি ফোটাতে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে আয়োজন করা হয়েছে ব্যতিক্রমী ‘শিশুদের আনন্দ উৎসব’।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) উপজেলার জঙ্গলমুকুন্দপুর এলাকায় লাসমিন ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে দিনব্যাপী এ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।
সকাল থেকেই শিশুদের পদচারণায় উৎসবস্থল হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত। খেলাধুলা, আনন্দ-উচ্ছ্বাস, প্রীতিভোজ ও পুরস্কার বিতরণে কাটে তাদের আনন্দঘন সময়।
আয়োজকরা জানান, সমাজের অনেক শিশু অর্থনৈতিক সংকট ও নানা সীমাবদ্ধতার কারণে স্বাভাবিক আনন্দ থেকে বঞ্চিত হয়। তাদের জন্যই অন্তত একটি দিন আনন্দ ও ভালোবাসায় ভরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে এ উৎসবের মাধ্যমে। উৎসবে শিশুদের জন্য ছিল নানা ধরনের খেলাধুলার আয়োজন। একের পর এক খেলায় অংশ নিয়ে উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠে তারা। খেলাধুলা শেষে শিশুদের জন্য আয়োজন করা হয় প্রীতিভোজ। পরে বিজয়ীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় পুরস্কার। পুরস্কার পাওয়ার পর শিশুদের আনন্দ যেন আরও বেড়ে যায়।

উৎসবে অংশ নেওয়া কয়েকজন শিশু জানায়, এমন আয়োজন তাদের কাছে খুবই আনন্দের। বন্ধুদের সঙ্গে খেলাধুলা করা, একসঙ্গে খাবার খাওয়া ও পুরস্কার পাওয়া, সব মিলিয়ে দিনটি তাদের কাছে ছিল স্মরণীয়।
লাসমিন ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ইমতিয়াজ হাফিজ খান। তার মায়ের স্মৃতিকে স্মরণীয় করে রাখতে ২০২৫ সালে মায়ের নামে ফাউন্ডেশনটি প্রতিষ্ঠা করেন তিনি।
প্রতিষ্ঠার পর থেকে ‘মানবতার সেবায় আমরা একসাথে’ স্লোগানকে সামনে রেখে অসহায়, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে সংগঠনটি। খাদ্য, বস্ত্র ও চিকিৎসা সহায়তার পাশাপাশি দুর্যোগের সময় ত্রাণ, ওষুধ ও পুনর্বাসন সহায়তা দিয়ে আসছে ফাউন্ডেশনটি।
এ ছাড়া দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপকরণ, বৃত্তি, বিনা মূল্যে কোচিং ও পাঠচক্রের উদ্যোগ রয়েছে। পরিচ্ছন্নতা ও সংস্কার কার্যক্রমে সহযোগিতা, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং মাদকবিরোধী প্রচারণাসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সচেতনতামূলক কর্মসূচিতেও অংশ নিচ্ছে সংগঠনটি।
শিশুদের আনন্দ উৎসবের আয়োজন ও ব্যবস্থাপনায় স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এস এম রাজিন হাসান, তাসনিয়া খান, নাঈমুর রহমান, জিন্নাতারা জুই, ঐশী শ্রুতি দত্ত, মো. ফাহাদ, মারুফ আলম, মোহাম্মদ জাবের ও আবু সালেহ। শিশুদের খেলাধুলা পরিচালনা থেকে শুরু করে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনায় তারা দায়িত্ব পালন করেন।
আয়োজকরা বলেন, একটি শিশুর সুন্দর শৈশব তার ভবিষ্যৎকে আলোকিত করতে পারে। তাই শিশুদের মুখে হাসি ফোটানোর পাশাপাশি সমাজের পিছিয়ে পড়া ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোই লাসমিন ফাউন্ডেশনের অন্যতম লক্ষ্য। ভবিষ্যতেও শিশু ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
একটি দিনের এই আয়োজন হয়তো বদলে দেবে না তাদের জীবনের সব সংকট; তবে কিছুটা সময়ের জন্য হলেও অসহায় শিশুদের মুখে যে হাসি ফুটেছে, সেটিই হয়ে উঠেছে এই উৎসবের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









