পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খান এবং তার স্ত্রী বুশরা বিবিকে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে একাকী বন্দিত্বে না রাখার নির্দেশ দিয়েছেন ইসলামাবাদ হাইকোর্ট (আইএইচসি)।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি খাদিম হুসেইন সুমরো এ রায় ঘোষণা করেন।
ইমরান খান ও বুশরা বিবিকে কারাগারে একাকী বন্দিত্বে রাখা হয়েছে—এমন অভিযোগের ভিত্তিতে ইমরান খানের বোন আলিমা খান পিটিআই প্রতিষ্ঠাতার একাকী বন্দিত্বের অভিযোগ তুলে আদালতে আবেদন করেন। অন্যদিকে বুশরা বিবির পক্ষে আবেদন করেন মুবাশারা খাওয়ার মানেকা।
রায়ে আদালত আদিয়ালা কারাগারের সুপারিনটেনডেন্টকে নির্দেশ দেন, যেন ইমরান খান ও বুশরা বিবিকে কোনো অবস্থাতেই একাকী বন্দিত্বে রাখা না হয় এবং আদালতের নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা হয়। এ ছাড়া কারা বিধিমালা অনুযায়ী ইমরান খান ও বুশরা বিবির মধ্যে সাক্ষাতের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ইমরান খানের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগও নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
আদালত আরও নির্দেশ দিয়েছেন, ইমরান খানের সঙ্গে তার দুই ছেলের টেলিফোনে কথা বলার ব্যবস্থা করতে হবে। তবে রায়ে বলা হয়েছে, যদি এসব কথোপকথনের রেকর্ড রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে অপব্যবহার করা হয়, তাহলে ফোনে কথা বলার এই সুবিধা প্রত্যাহার করা যেতে পারে।
রায়ে কারা কর্তৃপক্ষকে ইমরান খানকে প্রতিদিন সংবাদপত্র ও বই সরবরাহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কারা বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতেও বলা হয়েছে।
আদালত উল্লেখ করেন, এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নের দায়িত্ব আদিয়ালা কারাগারের সুপারিনটেনডেন্টের ওপর বর্তাবে।
নুসরাত ভুট্টো মামলা ও বেগম শামীম আফ্রিদি মামলাসহ পূর্ববর্তী বিভিন্ন রায়ের আলোকে আদালত আবেদনগুলো গ্রহণযোগ্য বলে ঘোষণা করেন। পরে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়ে মামলাগুলোর নিষ্পত্তি করা হয়।
রায়ের অংশ হিসেবে আদিয়ালা কারাগারের সুপারিনটেনডেন্টকে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে আদালতে একটি বাস্তবায়ন প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে আদালতের নির্দেশনা কতটুকু কার্যকর হয়েছে তা উল্লেখ থাকবে।
সূত্র: সামা টিভি অনলাইন


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









