ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে দেশটির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের জারি করা নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে রাশিয়ার ডিজেল আমদানির সুযোগ দেওয়ার চুক্তির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের দুই দলের সাতজন সিনেটর।
রোববার দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে তারা এ চুক্তির আইনগত ভিত্তি নিয়ে আপত্তি জানান।
শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে একটি সমঝোতার ঘোষণা দেন। এর আওতায় বিপুল পরিমাণ রাশিয়ান ডিজেল সরবরাহের সুযোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করার কথা বলা হয়। এ ঘোষণার পর ইউক্রেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকজন আইনপ্রণেতা দ্রুত এর বিরোধিতা করেন।
সিনেটরদের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, ‘পুতিনের ইউক্রেনবিরোধী নৃশংস যুদ্ধের অর্থায়নে যেন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ ব্যবহৃত না হয়, সে উদ্দেশ্যে ২০২২ সালে কংগ্রেস স্পষ্টভাবে রাশিয়া থেকে জ্বালানি আমদানি নিষিদ্ধ করেছিল।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘কংগ্রেসের অবস্থান পরিষ্কার ছিল—ইউক্রেনের বিরুদ্ধে আগ্রাসন বন্ধ না করা এবং ন্যাটোর মিত্রদের প্রতি হুমকি দেওয়া বন্ধ না করা পর্যন্ত রাশিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রের তেল আমদানি করা উচিত নয়।’
বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন ডেমোক্র্যাট দলের তিন সিনেটর জিন শাহিন, রিচার্ড ব্লুমেনথাল ও রন ওয়াইডেন এবং রিপাবলিকান দলের চার সিনেটর সুসান কলিন্স, লিসা মারকাউস্কি, জন কার্টিস ও থম টিলিস।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘রাশিয়ার ডিজেল আমদানির অনুমতি দিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নেওয়া সিদ্ধান্ত সরাসরি ওই আইনের পরিপন্থী। এ ছাড়া প্রশাসন কংগ্রেসের সঙ্গে পরামর্শ করেনি এবং আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্তটির যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করেও কোনো প্রতিবেদন জমা দেয়নি।’
সিনেটররা এ সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘রাশিয়া যখন ইউক্রেনের বেসামরিক নাগরিকদের হত্যা অব্যাহত রেখেছে, তখন পুতিনকে আর্থিকভাবে টিকে থাকার সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে।’ তাঁরা ট্রাম্প প্রশাসনকে অবিলম্বে এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার আহ্বান জানান।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট রোববার চুক্তিটির পক্ষে অবস্থান নেন। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের হাতে থাকা সব আইনগত ক্ষমতা ব্যবহার করেই এটি করব।’
সূত্র: এএফপি


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









