উত্তর কোরিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে সীমান্ত উত্তেজনা নতুন করে বেড়েছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে পাল্টাপাল্টি চিঠি পাঠানোর পাশাপাশি সীমান্তের কাছে উত্তর কোরিয়ার তিনটি স্বচালিত কামানবাহী সাঁজোয়া যান দেখা গেছে। এতে দুই দেশের মধ্যে সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) দক্ষিণ কোরিয়ার জিম্পো এলাকার একটি পর্যবেক্ষণকেন্দ্র থেকে সীমান্তের কাছে উত্তর কোরিয়ার তিনটি সাঁজোয়া যান দেখতে পান বার্তা সংস্থা রয়টার্সের একজন প্রতিনিধি। দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদ সংস্থা ইয়োনহাপ জানিয়েছে, যানগুলো ১২২ মিলিমিটার কামানবাহী স্বচালিত কামান। সীমান্তের কাছে এ ধরনের অস্ত্র প্রকাশ্যে দেখা যাওয়ার ঘটনা বিরল।
যানগুলোর কামানের নল দক্ষিণ কোরিয়ার দিকে তাক করা ছিল। এ ছাড়া অসামরিকীকৃত অঞ্চলের (ডিএমজেড) ভেতরে প্রায় ২০ থেকে ৩০ জন উত্তর কোরীয় সেনাকে বেড়া নির্মাণের কাজ করতে দেখা গেছে।
সিউলের কিয়ংনাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক লিম উল-চুল বলেন, উত্তর কোরিয়ার এভাবে প্রকাশ্যে স্বচালিত কামান মোতায়েন করা অস্বাভাবিক। তার মতে, এ পদক্ষেপের মাধ্যমে পিয়ংইয়ং বোঝাতে চাইছে, আলোচনার পরিবর্তে শক্তি প্রয়োগ করে সীমান্তনীতি কার্যকর করতে তারা প্রস্তুত। একই সঙ্গে সীমান্তে উত্তেজনা বাড়ানোর ক্ষেত্রে দক্ষিণ কোরিয়াকে সতর্ক থাকার বার্তাও দেওয়া হচ্ছে, যাতে অনিচ্ছাকৃত সংঘর্ষ এড়ানো যায়।
জাতিসংঘে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ জানিয়েছে, রোববার জাতিসংঘে পাঠানো চিঠিতে দেশটির প্রতিনিধি অভিযোগ করেছেন, সেপ্টেম্বরের স্থলমাইন বিস্ফোরণের ঘটনাকে ব্যবহার করে দক্ষিণ কোরিয়া উত্তর কোরিয়ার সীমান্ত নির্মাণকাজকে সামরিক অনুপ্রবেশ হিসেবে তুলে ধরছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, উত্তর কোরিয়ার সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘিত হলে আত্মরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। এর পরিণতির জন্য দক্ষিণ কোরিয়াকেই সম্পূর্ণ দায় নিতে হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
গত সপ্তাহে দক্ষিণ কোরিয়াও নিরাপত্তা পরিষদে চিঠি পাঠায়। এতে অভিযোগ করা হয়, ২১ সেপ্টেম্বর অসামরিকীকৃত অঞ্চলে বিস্ফোরিত স্থলমাইনটি উত্তর কোরীয় সেনারা পুঁতেছিল। সিউলের দাবি, এ ঘটনা কোরীয় যুদ্ধবিরতি চুক্তির লঙ্ঘন।
অঞ্চলটির তদারকির দায়িত্বে থাকা জাতিসংঘ কমান্ড জানিয়েছে, সীমান্তের ওপারে উত্তর কোরিয়ার পুঁতে রাখা মাইন যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করেছে। তবে পিয়ংইয়ং এ ঘটনায় দায় অস্বীকার করেছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার একীকরণ মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেছেন, উত্তর কোরিয়ার চিঠিতে মূলত তাদের আগের অবস্থানই পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। সীমান্ত চিহ্নিত করার কাজকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টাও এতে রয়েছে। তবে সাঁজোয়া যান মোতায়েন নিয়ে মন্ত্রণালয় আলাদা কোনো মন্তব্য করেনি।
সংঘাত এড়াতে আলোচনার প্রস্তাব
উত্তর কোরিয়ার চিঠিতে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়ার সেনারা উত্তর কোরীয় সেনাদের লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে। পিয়ংইয়ং একে জাতিসংঘ সনদের লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার বক্তব্য, উত্তর কোরীয় সেনারা সামরিক সীমারেখা অতিক্রম করলে তাদের ফিরে যেতে সতর্কবার্তা প্রচার ও সতর্কতামূলক গুলি ছোড়া হয়।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উত্তর কোরীয় সেনারা সীমান্তের কাছে কৌশলগত সড়ক ও বেড়া নির্মাণ এবং স্থলমাইন পুঁতে রাখার কাজ করছে। ইয়োনহাপের তথ্য অনুযায়ী, রোববার সীমান্তের কাছাকাছি কেপুং কাউন্টির উপকূলেও উত্তর কোরীয় সেনাদের সামরিক মহড়া চালাতে দেখা গেছে।
উত্তেজনা কমাতে দক্ষিণ কোরিয়া উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে। ২০১৫ সালেও উত্তর কোরিয়ার পুঁতে রাখা মাইনে দক্ষিণ কোরীয় সেনারা আহত হওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে সামরিক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল। পরে উত্তর কোরিয়ার দুঃখ প্রকাশ এবং দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের সমঝোতার মাধ্যমে সেই পরিস্থিতির অবসান ঘটে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









