ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আঘাত হেনেছে অতি তীব্র ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’। ঝড়টির প্রভাবে উপকূলীয় এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাত ও তীব্র দমকা হাওয়া শুরু হয়েছে। সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি নিয়েছে রাজ্য সরকার। প্রস্তুত রাখা হয়েছে ২ হাজার ১৯৯টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার (২৮ অক্টোবর) স্থানীয় সময় রাত ১টা ২০ মিনিটের দিকে অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড়টি। এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, রাত ২টা থেকে ৪টার মধ্যে ঝড়টির অগ্রভাগ স্থলভাগে প্রবেশ করে।
ভারতের আবহাওয়া বিভাগ (আইএমডি) জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড়টির বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১২৫ থেকে ১৩৫ কিলোমিটার হতে পারে। দমকা হাওয়ার গতিবেগ সর্বোচ্চ ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। ঝড়টির প্রভাবে অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলীয় এলাকায় ভারী বৃষ্টি ও প্রবল বাতাস বয়ে যাচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঝড়টির মূল অংশ অন্ধ্রপ্রদেশের বাপাতলা ও বিশাখাপত্তনমের মধ্যবর্তী উপকূলীয় এলাকা অতিক্রম করছে। স্থলভাগে প্রবেশের প্রক্রিয়া কয়েক ঘণ্টা ধরে চলতে পারে।
বিমান চলাচলে বিঘ্নের আশঙ্কা
ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলীয় এলাকা এবং দক্ষিণ ওড়িশায় বিমান চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ঝড়ের গতিপথ ও আবহাওয়ার পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে হায়দরাবাদ, বারাণসী, প্রয়াগরাজ ও গোরখপুরেও উড়োজাহাজ চলাচলে বিলম্ব হতে পারে।
প্রস্তুত ২১৯৯ আশ্রয়কেন্দ্র
ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানার আগেই সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুতি নেয় অন্ধ্রপ্রদেশ সরকার। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডু জানিয়েছেন, রাজ্যজুড়ে ২ হাজার ১৯৯টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
ঝুঁকিপূর্ণ উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে না বের হওয়ার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সতর্ক করা হয়েছে।
ঝড়টির প্রভাবে উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টি ও দমকা হাওয়া অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি মোকাবিলায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
তথ্যসূত্র: ইন্ডিয়া টুডে ও এনডিটিভি


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









