হরমুজ প্রণালির পূর্বাঞ্চলে সমুদ্রপথে পেতে রাখা মাইনে আঘাত হেনে একটি তেলবাহী ট্যাংকারে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছে ইরানের নৌবাহিনী। এ ঘটনায় জাহাজটি অচল হয়ে পড়েছে। তবে ট্যাংকারটির নাম, মালিকানা কিংবা নাবিকদের হতাহতের বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য জানায়নি তেহরান।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ইরানের নৌবাহিনীর জনসংযোগ বিভাগের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার সকালে হরমুজ প্রণালির পূর্বদিকে একটি অনিরাপদ এলাকায় চলাচলের সময় ট্যাংকারটি নৌমাইনে আঘাত হানে। এতে জাহাজটিতে আগুন ধরে যায় এবং এটি চলাচলের সক্ষমতা হারায়।
ইরানের নৌবাহিনীর দাবি, ট্যাংকারটি চলাচলের সময় নিজেদের শনাক্তকরণ ও নেভিগেশন ব্যবস্থা বন্ধ রেখেছিল। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে যেসব ট্যাংকার মাইনে আঘাত হেনে আগুনের শিকার হয়েছে, সেগুলোর ক্ষেত্রেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছে দেশটির নৌবাহিনী।
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে সতর্কবার্তা
ঘটনার পর হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে নতুন করে সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরানের নৌবাহিনী। জাহাজ মালিকদের উদ্দেশে দেওয়া বার্তায় বলা হয়েছে, সমন্বয় ছাড়া চলাচলকারী এবং ইরানের নির্ধারিত নিয়ম অমান্যকারী জাহাজগুলোর জন্য হরমুজ প্রণালি অনিরাপদ ও বন্ধ রয়েছে।
ইরানের নৌবাহিনী আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো যুদ্ধের পরিণতি হবে পরাজয়।
এর আগেও ট্যাংকার ও টাগবোটে আগুন
এর আগে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছিল, হরমুজ প্রণালি দিয়ে অবৈধভাবে চলাচলের সময় দুটি তেলবাহী ট্যাংকার ও একটি টাগবোটে আগুন ধরে যায়।
বৃহস্পতিবারের ঘটনাটি ওই ধারাবাহিক উত্তেজনার মধ্যেই নতুন করে সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনেও আইআরজিসির বরাত দিয়ে দুটি ট্যাংকার ও একটি টাগবোটে আগুন লাগার পৃথক ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব ঘটনার বিস্তারিত স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি।
বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহে উদ্বেগ
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও গ্যাস এই জলপথ দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে পরিবহন করা হয়।
এ অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা এবং বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বা মাইন বিস্ফোরণের খবর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার, নৌবাণিজ্য ও জাহাজের বিমা খরচে প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে সর্বশেষ ট্যাংকারে মাইন আঘাতের বিষয়ে ইরানের দাবির স্বাধীন ও নিরপেক্ষ সত্যতা এখনো নিশ্চিত হয়নি। জাহাজটির পরিচয়, নাবিকদের অবস্থা এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









