ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ আরও রক্তক্ষয়ী রূপ নিয়েছে। চলমান বিক্ষোভে শুধুমাত্র রাজধানী তেহরানেই এক রাতে ২০০ জনের বেশি বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সাময়িকী টাইম ম্যাগাজিন।
গত বৃহস্পতিবার রাতে আন্দোলন তীব্র হয়। এ সময় বিক্ষোভাকারীর সহিংস হয়ে উঠেন। এর জবাবে নিরাপত্তা বাহিনী ব্যাপক গুলি ছোড়ে।
টাইম ম্যাগাজিন শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, নাম গোপন রাখার শর্তে তেহরানের এক চিকিৎসক তাদের জানিয়েছেন, শুধুমাত্র তেহরানের ছয়টি হাসপাতালে ২০৬ বিক্ষোভকারীর মৃত্যুর তথ্য রেকর্ড করা হয়েছে। যাদের বেশিরভাগ গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন।
সাময়িকীটি বলেছে, যদি মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত হয় তাহলে ধারণা করা যায়, ইরান সরকার বিক্ষোভকারীদের দমনে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এরসঙ্গে একটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সতর্কতাকে উপেক্ষা করা হবে। তিনি হুমকি দিয়েছিলেন, ইরান যদি বিক্ষোভকারীদের হত্যা করে তাহলে খামেনি সরকারকে চড়া মূল্য দিতে হবে।
অন্যদিকে মানবাধিকার সংস্থাগুলোর হিসাব অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত নিহত অন্তত ৬২ জন। এর মধ্যে রয়েছেন ৪৮ জন বিক্ষোভকারী ও ১৪ জন নিরাপত্তা সদস্য। বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর সহিংসতায় গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও ফ্রান্সের নেতারা।
এদিকে পরিস্থিতি মোকাবেলায় এবার কঠোর দমননীতির ইঙ্গিত দিয়েছেন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। ট্রাম্পের হাতে ইরানিদের রক্ত লেগে আছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
গত ২৮ ডিসেম্বর শুরু হওয়া এ আন্দোলন এখন পর্যন্ত ৩১টি শহরে ছড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতের তীব্র আন্দোলনের পর শুক্রবার রাতেও হাজার হাজার মানুষ তেহরানসহ অন্যান্য জায়গায় জড়ো হয়েছেন।
ওই চিকিৎসক টাইমস ম্যাগাজিনকে বলেছেন, শুক্রবার হাসপাতাল থেকে এসব মরদেহ সরিয়ে ফেলা হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, উত্তর তেহরানের একটি পুলিশ স্টেশনের বাইরে বিক্ষোভকারীদের মেশিনগান থেকে ব্রাশফায়ার করা হয়েছে। সেখানে অন্তত ৩০ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন। নিহতদের বেশিরভাগ তরুণ বলে জানিয়েছেন এ চিকিৎসক।
তবে হতাহতের সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি বলে জানিয়েছে টাইমস ম্যাগাজিন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









