যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের একটি দল ৪৫ দিনের সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির শর্ত নিয়ে আলোচনা করছেন, যার ধারাবাহিকতায় মধ্যপ্রাচ্যে এক মাসের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের স্থায়ী অবসানও ঘটতে পারে।
আলোচনা সম্বন্ধে অবগত যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও আঞ্চলিক মোট চারটি সূত্রের বরাত দিয়ে রোববার অ্যাক্সিওস এ খবর দিয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
মধ্যস্থতাকারীরা দুই পর্ববিশিষ্ট একটি চুক্তির শর্ত নিয়ে আলোচনা করছেন। প্রথম পর্বে ৪৫ দিনের সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি, তার মধ্যেই যুদ্ধের স্থায়ী অবসান নিয়ে আলোচনা চলবে।
দ্বিতীয় পর্বে হবে যুদ্ধ শেষ করার চুক্তি, বলছে অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদন। আলোচনায় বেশি সময় লাগলে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়তেও পারে।
রয়টার্স তাৎক্ষণিকভাবে ভার্জিনিয়াভিত্তিক অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনটির সত্যতা যাচাই করতে পারেনি। এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য হোয়াইট হাউস ও মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দ্বারস্থ হলে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের দিক থেকেও সাড়া পায়নি তারা।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর এবং গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জলপথ হরমুজ প্রণালী থেকে অবরোধ তুলতে মার্চের শেষ দিকে ইরানকে ১০ দিনের ডেডলাইন দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই ডেডলাইন শেষ হচ্ছে আজ সোমবার।
এদিকে রোববার ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। শনিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগামাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় তিনি বলেছেন, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে যদি ইরান হরমুজ প্রণালি থেকে অবরোধ প্রত্যাহার না করে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তিতে না আসে, তাহলে দেশটির সব বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করে দেওয়া হবে।
তবে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের সূত্রগুলো এক্সিওসকে জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এসব আল্টিমেটাম-ডেডলাইন ইরান মেনে নেবে— এমন সম্ভাবনা ক্ষীণ, বরং এই ৪৫ দিনের সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতিই এই যুদ্ধের উত্তেজনা নাটকীয়ভাবে হ্রাস করতে পারে।
এর আগে রোববারই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে বলেছিলেন, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য ইরানকে মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সময় দিয়েছেন তিনি। এর মধ্যে তেহরান কথা না শুনলে তাদের বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর প্রবল হামলা শুরু হবে।
পাকিস্তান, মিশর ও তুর্কি মধ্যস্থতাকারীদের সাহায্যে তেহরান-ওয়াশিংটন এ আলোচনার পাশাপাশি মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচির মধ্যেও বার্তা আদান-প্রদান চলছে বলে অ্যাক্সিওস জানিয়েছে।
মধ্যস্থতাকারীরা মনে করছেন, কেবল চূড়ান্ত চুক্তির মাধ্যমেই হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি উন্মুক্ত এবং ইরানের উচ্চ-মাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিয়ে সঙ্কটের অবসান ঘটতে পারে।
আস্থা বাড়াতে মধ্যস্থতাকারীরা আপাতত দুই পক্ষের কাছ থেকেই ছোটখাট কিছু ব্যবস্থা দেখতে চাইছেন।
সম্ভাব্য ৪৫ দিনের যুদ্ধবিরতি চলাকালে ইরানকে এই দুই ইস্যুর কোনোটিতেই পুরোপুরি ছাড় দিতে হবে না, বলেছে দুটি সূত্র।
ইরানের কী কী দাবি যুক্তরাষ্ট্র মেনে নিতে পারে, সেগুলো নিয়েও মধ্যস্থতাকারীরা কাজ করছেন। তারা মার্কিন প্রেসিডেন্টের বেঁধে দেওয়া ৪৮ ঘণ্টা সময়সীমার মধ্যেই ইরানের দিক থেকে ইতিবাচক পদক্ষেপ চান।
তবে ইরানি আলোচকরা মধ্যস্থতাকারীদের স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, তারা গাজা বা লেবাননের মতো পরিস্থিতি চান না, যেখানে ‘কাগজে যুদ্ধবিরতি থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যখন তখন আক্রমণ করার সুযোগ থাকবে’, লিখেছে অ্যাক্সিওস।
একাধিক সূত্র মার্কিন এ সংবাদমাধ্যমটিকে বলেছে, নাটকীয়ভাবে যুদ্ধের তীব্রতা বাড়ার আগে এটাই শেষ সুযোগ। তা সত্ত্বেও দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ এত সুস্পষ্ট যে কোনো সমঝোতায় পৌঁছানোর সম্ভাবনা ‘খুবই কম’।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









