জাতীয় সংসদ ভবনের প্লেনারি হলে সাউন্ড সিস্টেম স্থাপনে অনিয়ম, দুর্নীতির অভিযোগের অনুসন্ধান শুরু করেছে দুদক। ওই সিস্টেমে গলদ শুরু হয়েছে সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের ২০১৮ সাল থেকে। এ সাউন্ড সিস্টেম উন্নয়নের কাজ হয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও। অভিযোগটি অনুসন্ধান করছেন দুদকের প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক প্রবীর কুমার দাস।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনি জানান, বিগত কমিশন অভিযোগটি অনুসন্ধানের অনুমোদন দিয়েছে।
দুদক জানায়, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় গণপূর্ত বিভাগের জাতীয় সংসদ ভবন কার্যালয়ের সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী আস্রাফুল হকের তত্ত্বাবধানে ঠিকাদার কমিউনিকেশন টেকনোলজি লিমিটেডের সিইও জাহিদুর রহিম জোয়ারদার এসআইএস সাউন্ড সিস্টেম স্থাপন করেছিলেন। এরই মধ্যে সংসদ অধিবেশন চলাকালে একাধিকবার সাউন্ড সিস্টেমে বিভ্রাট ঘটেছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দিনে বিক্ষোভকারীরা জাতীয় সংসদ ভবনে প্রবেশ করেন। ওই সময় সাউন্ড সিস্টেম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর আস্রাফুল হক ঠিকাদার জাহিদুর রহিম জোয়ারদারের মাধ্যমে সাউন্ড সিন্টেম মেরামত করান। এবার তিনি এ কাজে ৯ কোটি টাকা বরাদ্দ করিয়েছিলেন। এর মধ্যে খরচ করা হয় পাঁচ কোটি টাকা। আস্রাফুল বর্তমানে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে সংসদ ভবন কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন করছেন।
সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ঠিকাদার জাহিদুরকে ওই সাউন্ড সিস্টেম স্থাপনের জন্য কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় একই ঠিকাদারের মাধ্যমে মেরামতের কাজ করানো হয়। প্রকৌশলী আস্রাফুল হক, সংশ্লিষ্ট অন্য প্রকৌশলী ও ওই ঠিকাদার পরস্পর যোগসাজশে অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে সাউন্ড সিস্টেম স্থাপন, মেরামত ও সংস্কারে সরকারের বিপুল অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেন। তাদের বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ আছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









