ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নির্ধারিত সংলাপ স্থগিত করেছে ইরান। দেশটির আধাসরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এক প্রতিবেদনে নিশ্চিত করেছে এ তথ্য।
সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে তাসনিম নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘ওয়াশিংটন যতদিন পর্যন্ত ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে না পারবে, ততদিন পর্যন্ত সংলাপ স্থগিত থাকবে।’
ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সি একটি অজ্ঞাত সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, ইরানের আলোচক দল এখনো ইসলামাবাদে পৌঁছায়নি এবং তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় যোগ দেওয়ার কোনো পরিকল্পনাও করেনি।
সংস্থাটি দাবি করেছে, ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে পাকিস্তান কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছে যে লেবাননে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত তারা আলোচনায় অংশ নেবে না।
এর আগে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছিল, ইরানি একটি প্রতিনিধিদল ইসলামাবাদে পৌঁছে ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে। তবে ইরানি সংবাদমাধ্যম এই দাবি অস্বীকার করেছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই বলেছেন, যুদ্ধ বন্ধে যেকোনো আলোচনা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি পালনের ওপর নির্ভর করবে, বিশেষ করে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা এবং পাকিস্তানের মধ্যস্থতার পরও লেবাননে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে বলে রিপোর্টে বলা হয়েছে। তবে তেল আবিব (ইসরায়েল) ও লেবানন এই যুদ্ধবিরতির আওতায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার দাবিকে অস্বীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
এদিকে ২ মার্চ থেকে দখলদার ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় লেবাননে ১৭৩৯ জন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এসব হামলায় সাড়ে পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছে। তবে ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরপরই লেবাননে ব্যাপক বিমান হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী।
সেই ১০ মিনিটের ১০০ বিমান হামলায় ২৫৪ জন নিহত হবার খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার টার্ক। একই সঙ্গে এই বর্বর হামলাকে গণহত্যা বলে আখ্যা দিয়েছে রেডক্রস সোসাইটি।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









