জাপানের পার্লামেন্টে নারীদের প্রতিনিধিত্ব বাড়লেও অবকাঠামোগত বাস্তবতায় এখনো রয়েছে বড় ধরনের বৈষম্য। নারীদের জন্য পর্যাপ্ত শৌচালয়ের অভাব নিয়ে এবার সরব হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি-সহ অন্তত ৬০ জন নারী আইনপ্রণেতা। তারা পার্লামেন্ট ভবনে নারীদের জন্য শৌচালয়ের সংখ্যা বাড়ানোর আনুষ্ঠানিক আবেদন জানিয়েছেন।
বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের অক্টোবরে জাপানের নিম্নকক্ষে রেকর্ড ৭৩ জন নারী সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। কিন্তু সেই অনুপাতে পার্লামেন্ট ভবনে নারীদের জন্য শৌচালয় নেই বললেই চলে। অধিবেশন শুরুর আগে নারী আইনপ্রণেতাদের শৌচালয়ের সামনে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হয়, এমনকি কেউ কেউ সময়ের অভাবে শৌচালয়ে যাওয়া এড়িয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
বর্তমানে গোটা পার্লামেন্ট ভবনে নারীদের জন্য রয়েছে মাত্র ৯টি শৌচালয়, যেখানে পুরুষদের জন্য রয়েছে ১২টি শৌচালয় ও ৬৭টি কক্ষ ও প্রশ্রাবখানা। একই শৌচালয় ব্যবহার করতে হয় নারী আইনপ্রণেতা, কর্মী ও অতিথিদের।
বিরোধীদলীয় নেত্রী ইয়াসুকো কোমিয়ামা বলেছেন, ভবিষ্যতে সংসদে নারীর অংশগ্রহণ ৩০ শতাংশ ছাড়াবে—এই বাস্তবতা মাথায় রেখে এখনই প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি। এদিকে পার্লামেন্টের সংশ্লিষ্ট কমিটি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৯৩৬ সালে নির্মিত জাপানের বর্তমান পার্লামেন্ট ভবনটি এমন এক সময়ে তৈরি, যখন নারীদের ভোটাধিকারই ছিল না। সেই ঐতিহাসিক বাস্তবতার ছাপ আজও রয়ে গেছে অবকাঠামোতে—যা বদলাতে এখন জোরালো দাবি তুলছেন নারী প্রতিনিধিরা।
জাপানি সংবাদমাধ্যম আসাহি শিমবুন জানিয়েছে, পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ কমিটির সভাপতি ইয়াসুকাজু হামাদা নারীদের শৌচালয় বাড়ানোর প্রস্তাবটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার আশ্বাস দিয়েছেন।
জাপানে নারী শৌচাগারের সংকট কেবল পার্লামেন্ট ভবনেই সীমাবদ্ধ নয়; দেশজুড়ে গণশৌচালয়গুলোতে নারীদের দীর্ঘ লাইন একটি সাধারণ দৃশ্য। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবাও জাপানে নারীদের জীবনযাত্রা আরও নিশ্চিন্ত ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করতে শৌচালয় সুবিধা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন







