মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ে মধ্যকার বৈঠক শেষ হয়েছে। আলোচনাটি প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলে, যা মূল নির্ধারিত সময়ের দ্বিগুণ।
বৃহস্পতিবার চীনা প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকের পর টেম্পল অব হেভেন-এ পৌঁছানোর পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে আলোচনা ‘দারুণ’ হয়েছে।
প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বিবিসি জানায়, সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প সংক্ষেপে বলেন আলোচনা ‘গ্রেট’ হয়েছে।
তবে তাইওয়ান ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়েছে কি না—এ বিষয়ে পরবর্তী প্রশ্নের কোনো উত্তর তিনি দেননি।
অন্যদিকে তাইওয়ান ইস্যুতে বিদ্যমান বিরোধ ঠিকঠাকমতো সামলানো না গেলে চীন ও যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে বলে সতর্ক করে দিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং।
স্বশাসিত তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ড বলে বরাবর দাবি করে আসছে চীন। এটা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দেশটির দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। কেননা, তাইওয়ানের অস্ত্রের অন্যতম জোগানদাতা ওয়াশিংটন।
‘যদি ঠিকঠাক সামলানো না যায়, তাহলে দুদেশের মধ্যে সংঘাত হতে পারে। এটা চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ককে অত্যন্ত বিপজ্জনক পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দেবে’—বলেন চীনের প্রেসিডেন্ট।
বিশ্বের দুই শীর্ষ অর্থনীতির নেতাদের দুদিনের এ শীর্ষ সম্মেলন আজ বৃহস্পতিবার শুরু হয়েছে। এ সময় চীনা প্রেসিডেন্ট যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইতিবাচক বাণিজ্য আলোচনার প্রশংসা করেন।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রে জনপ্রিয়তা কমিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ পরিস্থিতিতে চীনের মতো প্রধান কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বী দেশে ট্রাম্পের এ সফর বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। সর্বশেষ ২০১৭ সালে নিজের প্রথম মেয়াদে বেইজিং সফরে গিয়েছিলেন ট্রাম্প।
ট্রাম্প ‘গ্রেট হল অব দ্য পিপল’-এ পৌঁছলে সি চিন পিং তাঁকে স্বাগত জানান। এ সময় ট্রাম্পকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। শিশুরা ফুল আর চীন–যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা নেড়ে অতিথিকে বরণ করে নেয়। পরে শুরু হয় বৈঠক।
এ সময় ট্রাম্প চীনা প্রেসিডেন্টকে বলেন, ‘আপনি একজন মহান নেতা। মাঝেমধ্যে মানুষ আমার মুখে এ কথাটা শুনতে পছন্দ করে না। তবু আমি বলি।’
ট্রাম্প আরও বলেন, ‘অনেকে বলছেন, এটি হয়তো এ–যাবৎকালের সবচেয়ে বড় শীর্ষ সম্মেলন হতে চলেছে।’ মার্কিন প্রেসিডেন্টের ভাষ্য, ‘আপনার সঙ্গে থাকতে পারাটা সম্মানের। আপনার বন্ধু হতে পারাটাও সম্মানের। চীন–যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে ভালো হতে চলেছে।’
এর আগে শীর্ষ সম্মেলনের উদ্বোধন করে ট্রাম্পকে চীনের প্রেসিডেন্ট বলেন, স্থিতিশীল চীন-মার্কিন সম্পর্ক পুরো বিশ্বের জন্য ইতিবাচক। তিনি আরও বলেন, ‘যখন আমরা সহযোগিতা করি, উভয়পক্ষ লাভবান হয়। যখন আমরা পরস্পরের মুখোমুখি হই, উভয়পক্ষই ক্ষতির শিকার হয়।’
ব্যবসা–বাণিজ্যের একদল শীর্ষ ব্যক্তিত্বকে সঙ্গে নিয়ে চীন সফরে গেছেন ট্রাম্প। তাঁদের মধ্যে টিম কুক, ইলন মাস্ক, জেনসেন হুয়াং রয়েছেন। তাঁরা দুই বিশ্বনেতার বৈঠকেও উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের শুরুতে মার্কিন শিল্প খাতের জন্য চীনকে ‘উন্মুক্ত’ করে দিতে সি চিন পিংয়ের প্রতি আহ্বান জানান ট্রাম্প।
বাণিজ্যের পাশাপাশি ট্রাম্প ইরান ইস্যুতেও সি চিন পিংয়ের সঙ্গে কথা বলেছেন। সংঘাত নিরসনে ওয়াশিংটনের সঙ্গে একটি চুক্তিতে সম্মত হতে ইরানকে বোঝানোর বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের প্রতি নিজের প্রত্যাশার কথা জানান।
বিশ্লেষকদের অনেকের মতে, তেহরানকে চাপে ফেলতে কিংবা ইরানের সামরিক বাহিনীর প্রতি সমর্থন বন্ধ করতে সি চিন পিং ইচ্ছুক হবেন কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









