সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে গ্রেপ্তার না দেখানো এবং হয়রানি না করার বিষয়ে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন নিষ্পত্তি করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ।
রবিবার (৯ আগস্ট) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন। ফলে সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া বিচারপতি খায়রুল হককে গ্রেপ্তার না দেখানো ও হয়রানি না করার বিষয়ে হাইকোর্টের দেওয়া নির্দেশনা শুধু তার ক্ষেত্রে বহাল থাকছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।
আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী কামরুল হক সিদ্দিকী, সারা হোসেন, মোস্তাফিজুর রহমান খান, মাহবুব শফিক ও মোনায়েম নবী শাহীনসহ অন্যরা। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ মেহেদি হাসান চৌধুরী।
এর আগে গত ১৭ মে বিচারপতি রাজিক-আল-জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ ওই আদেশ দিয়েছিলেন। সে সময় আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী কামরুল হক সিদ্দিকী, সাঈদ আহমেদ রাজা, মোস্তাফিজুর রহমান ও মোনায়েম নবী শাহীন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত দুটি হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গত ১২ মে হাইকোর্ট থেকে জামিন পান বিচারপতি খায়রুল হক। ওই আদেশের পর তার আইনজীবীরা জানিয়েছিলেন, সব মামলায় জামিন পাওয়ায় আপাতত তার কারামুক্তিতে আইনি বাধা নেই। তবে হাইকোর্টের ওই আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ।
এর আগে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় যুবদলকর্মী হত্যা, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রায় জালিয়াতি এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা পাঁচ মামলায় গত ২৮ এপ্রিল খায়রুল হকের জামিন বহাল রাখেন আপিল বিভাগ।
এরও আগে গত ৮ মার্চ হাইকোর্ট জামিনের বিষয়ে রুল মঞ্জুর করে চার মামলায় তাকে জামিন দেন। পরে ১১ মার্চ দুদকের মামলাতেও জামিন পান তিনি। এসব জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করলে আদালত তা খারিজ করে দেন।
এরপর যাত্রাবাড়ী থানায় করা আরিফ হত্যা এবং আদাবর থানায় করা রুবেল হত্যা মামলায় খায়রুল হককে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এসব মামলায় নিম্ন আদালতে জামিন চেয়ে ব্যর্থ হওয়ার পর হাইকোর্টে আবেদন করেন তিনি। পরে গত ১২ মে ওই দুই মামলাতেও হাইকোর্ট থেকে জামিন পান।
বর্তমানে বিচারপতি খায়রুল হকের বিরুদ্ধে মোট সাতটি মামলা রয়েছে।
এর আগে গত বছরের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে যুবদলকর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









