আদালতের অনুমতি ছাড়া সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক দেশত্যাগ করতে পারবেন না বলে আদেশ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।
গত ১১ আগস্ট প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন।
সোমবার (১৭ আগস্ট) আদেশটির লিখিত অনুলিপি প্রকাশ করা হয়েছে।
এদিকে খায়রুল হকের বিরুদ্ধে করা সবশেষ মামলায় জামিন বহাল রেখেছেন সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার আদালত। ফলে যেকোনো সময় তিনি মুক্তি পেতে পারেন বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোতাহার হোসেন সাজু।
খায়রুল হকের বিরুদ্ধে সবশেষ মামলাটি রাজধানীর বনানী থানায় দায়ের করা হত্যাচেষ্টা মামলা। বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ তাকে জামিন দিয়েছিলেন। সোমবার চেম্বার আদালত ওই জামিন বহাল রাখেন।
এর আগে গত ২ জুলাই রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানায় দায়ের করা খোয়াইব হত্যা মামলায় খায়রুল হকের জামিন বহাল রাখেন চেম্বার আদালত। পরে বনানী থানার মামলায় তাকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়।
গত ৩০ জুন যাত্রাবাড়ী থানায় দায়ের করা খোয়াইব হত্যা মামলায় হাইকোর্ট তাকে জামিন দেন।
এর আগে গত ২৩ মে পৃথক সাত মামলায় জামিন পাওয়ার পর খায়রুল হককে নতুন করে খোয়াইব হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ্ ফারজানা হকের আদালত এ আদেশ দেন।
গত ১৬ মে যাত্রাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক মো. ইব্রাহিম খলিল তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেছিলেন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সকালে যাত্রাবাড়ী পদচারী-সেতুর নিচে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেন খোয়াইব। বেলা ১১টার দিকে আন্দোলনকারীরা মিছিল নিয়ে যাত্রাবাড়ী মোড়ের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশ, র্যাব এবং আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের অস্ত্রধারীরা গুলি চালায় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
এতে খোয়াইব গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নিহত খোয়াইবের ভাই জোবায়ের আহম্মেদ ২০২৪ সালের ১৬ নভেম্বর যাত্রাবাড়ী থানায় হত্যা মামলা করেন। এতে শেখ হাসিনাসহ ৮০ জনকে আসামি করা হয়।
গত বছরের ২৪ জুলাই সকালে ধানমন্ডির বাসা থেকে খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। এরপর তাকে একে একে আটটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









