একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আবুল কালাম আযাদের আপিলের অনুমতি প্রশ্নে শুনানি চার সপ্তাহের জন্য মুলতবি করেছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।
একইসঙ্গে বিচারাধীন বিষয় নিয়ে সংবাদমাধ্যমে কথা বলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলিকে আদালত সতর্ক করেছেন বলে জানিয়েছেন আযাদের আইনজীবী।
আজ মঙ্গলবার বিচারপতি মো. রেজাউল হক নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের বেঞ্চ মুলতবি আদেশের পাশাপাশি এ সতর্ক করেন।
আদালতে আবুল কালাম আযাদের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এহসান এ সিদ্দিকী, ইমরান এ সিদ্দিকী, আইনজীবী মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান (নাজিব মোমেন) ও মীর ওসমান বিন নাসিম। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন প্রধান কৌঁসুলি আমিনুল ইসলাম।
আদেশের পর এহসান এ সিদ্দিকী বলেন, “আদালত আপিল শুনানিটি চার সপ্তাহের জন্য মুলতবি করেছেন। অবকাশকালীন ছুটির পর এটি আবার শুনানির জন্য উঠবে। তখন মূল আপিল ও আবেদনের ওপর একসঙ্গে শুনানি হবে।”
এর আগে ৭ সেপ্টেম্বর আবুল কালাম আযাদের আপিলের বিষয়ে আদেশের দিন ধার্য থাকলেও আপিল বিভাগে অন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার শুনানি থাকায় তা হয়নি। পরে বিষয়টি মঙ্গলবারের কার্যতালিকায় আসে। গত ১০ আগস্ট রাষ্ট্রপক্ষের সময় আবেদনের পর ১৭ আগস্ট শুনানির দিন নির্ধারণ করা হয়েছিল। ওইদিন শুনানি শেষে ৩১ আগস্ট পরবর্তী তারিখ রাখা হয়।
এরপর ৩১ আগস্ট আপিল বিভাগ ৭ সেপ্টেম্বর আদেশের জন্য দিন ধার্য করেন। আবুল কালাম আযাদের পক্ষে করা আবেদনে বিলম্ব মার্জনা এবং আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুদণ্ডের সাজা স্থগিতের আবেদন করা হয়েছে।
জামায়াতে ইসলামীর সাবেক রুকন আবুল কালাম আযাদ পলাতক থাকা অবস্থায় ২০১৩ সালের ২১ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে মৃত্যুদণ্ড পান।
একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে ট্রাইব্যুনালের এটিই ছিল প্রথম রায়। দীর্ঘ ১৩ বছর পর চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি তিনি ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করেন। এর আগে ২০২৫ সালের অক্টোবরে তাঁর মৃত্যুদণ্ড এক বছরের জন্য স্থগিত করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আত্মসমর্পণের পর ট্রাইব্যুনাল তাঁকে মামলার প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের সত্যায়িত কপি দেওয়ার নির্দেশ দেন এবং আপিল বিভাগ থেকে পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত বিদ্যমান অবস্থায় থাকার নির্দেশনা দেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









